হাসপাতালে ঢোকার আগেই সিএনজিতে প্রসব, বাঁচল মা ও নবজাতক

কক্সবাজারের চকরিয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর এক প্রসূতির জরুরি প্রসব সম্পন্ন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসক-নার্সদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খাসপাড়া এলাকার আকলিমা জান্নাত (৩০) প্রচণ্ড প্রসববেদনা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছানোর পর তাঁর প্রসববেদনা তীব্র হয়ে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে নার্স টুম্পা রানি এবং অন্যান্য নার্স ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিএনজির ভেতরেই জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন করা হয়।
পরে মা ও নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সীমিত জনবল ও প্রচণ্ড রোগীর চাপের মধ্যেও আগত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কখনো পিছপা হন না। হাসপাতালের দেয়ালের ভেতরে প্রতিদিন শুধু চিকিৎসাই হয় না, অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচানোর নিরন্তর লড়াইও চলে। সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য মাথায় রেখে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক ও নার্সদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে সিএনজির ভেতরেই নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন হওয়ায় মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।











