বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলায় থাকতে জেলা প্রশাসক বরাবর ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলায় থাকতে জেলা প্রশাসক বরাবর ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি

বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলায় থাকতে জেলা প্রশাসক বরাবর ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত বাঁকখালী উপজেলা থেকে ঈদগড় ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে বর্তমান রামু উপজেলায় অথবা ঈদগাঁও উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে ঈদগড় ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নানের হাতে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাঁকখালী উপজেলার অধীনে ঈদগড় ইউনিয়নকে যুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তি এবং সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি ও জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

এলাকাবাসীর বৃহত্তর স্বার্থ এবং ভৌগোলিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ঈদগড় ইউনিয়নকে আগের মতো রামু উপজেলায় বহাল রাখা অথবা নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে এই যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ঈদগড়ের অধিবাসীরা।




ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নাকের ডগায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, গড়ে উঠেছে মুরগির খামার

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নাকের ডগায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, গড়ে উঠেছে মুরগির খামার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের আওতাধীন ডুলাহাজারা বনবিটে সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে মুরগির খামারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের লাগোয়া মাদার ট্রি, গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়নের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বনভূমি দখল করে অবৈধ বসতি, মুরগির খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগেই সংরক্ষিত বনভূমিতে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। বনভূমি দখলের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হবে। এতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, "উক্ত জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।"

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান ও মামলা হওয়ার পরও কীভাবে একই এলাকায় নতুন করে মুরগির খামারসহ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে? বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।




রামুর গর্জনিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

রামুর গর্জনিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত
ছবি সংগৃহীত।

রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের পোয়াঙ্গেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে বিদ্যালয় মিলনায়তনে সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্বিরাআত, গজল ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শিক্ষক আহমদ শাহ বাবুল ও পল্লী চিকিৎসক মুর্শেদুল হক সৌরভ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রশিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষিকা বেনজীর রশিদ, জুবাইদা বেগম ও শামীমা সিকদার। বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শময় জীবনযাপনই মানবজাতিকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়।

আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে আলিয়া বুশরা ওয়ারিশা, রাতিবা তামাজুল ও মারিয়া নূর।

কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন করে ইয়ানাত আহমেদ আদিব, ২য় স্থান আলিয়া বুশরা ওয়ারিশা এবং ৩য় স্থান অর্জন করে তানভীর হাসান রাইয়ান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ছাত্র ইয়ানাত আহমেদ আদিব। শেষে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষক আমিনুর রশিদ চৌধুরী।




হাসপাতালে ঢোকার আগেই সিএনজিতে প্রসব, বাঁচল মা ও নবজাতক

হাসপাতালে ঢোকার আগেই সিএনজিতে প্রসব, বাঁচল মা ও নবজাতক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর এক প্রসূতির জরুরি প্রসব সম্পন্ন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসক-নার্সদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খাসপাড়া এলাকার আকলিমা জান্নাত (৩০) প্রচণ্ড প্রসববেদনা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছানোর পর তাঁর প্রসববেদনা তীব্র হয়ে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে নার্স টুম্পা রানি এবং অন্যান্য নার্স ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিএনজির ভেতরেই জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন করা হয়।

পরে মা ও নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সীমিত জনবল ও প্রচণ্ড রোগীর চাপের মধ্যেও আগত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কখনো পিছপা হন না। হাসপাতালের দেয়ালের ভেতরে প্রতিদিন শুধু চিকিৎসাই হয় না, অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচানোর নিরন্তর লড়াইও চলে। সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য মাথায় রেখে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক ও নার্সদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে সিএনজির ভেতরেই নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন হওয়ায় মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।