সৌদিতে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

সৌদিতে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

সৌদিতে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের একটি মসজিদের ভেতরে অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তাদের নাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রচারিত তথ্যে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রচারিত তথ্যে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর রায় চূড়ান্ত হয় এবং শাস্তি কার্যকরের জন্য রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী আইন প্রয়োগে দেশটির সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকরের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।




পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহত শিক্ষার্থীদের সবার বয়স ১৩ বছরের নিচে। এ ঘটনায় আহত আরও এক ডজনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ছাদ ধসে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জরুরি সেবা বাহিনী।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই ছাদ ও ভবনধসের ঘটনা ঘটে।

গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। তাদের বয়সও ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। 




মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ছবি সংগৃহীত।

মক্কায় মসজিদ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এজেল নিউজ এ খবর জানিয়েছে।  

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং সিথি আক্তার।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পবিত্র নগরীর একটি মসজিদের ভেতর অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে তারা দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনাটি জানার পর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই দুজনকে গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টিকে বিবেচনা করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাযির আওতায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এই রায়টি উচ্চতর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বহাল রাখা হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।

গত বুধবার (১৪ অক্টোব) মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিথি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিবৃতিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনকারী বা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সাথে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে যে কাউকেই কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।




মার্কিন অস্ত্রেও সুরক্ষা নেই, সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করছে হুথিরা

মার্কিন অস্ত্রেও সুরক্ষা নেই, সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করছে হুথিরা
ছবি সংগৃহীত।

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা এবং নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জামও কিনেছে দেশটি। তবু ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে রিয়াদ। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। সামরিক খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের অবস্থান প্রথম দশে। দেশটির হাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উন্নত অস্ত্র।


কিন্তু এত বিপুল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ, দেশটির বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং একাধিক দিক থেকে আসা হামলার হুমকি।

তিন দিক থেকে হামলার ঝুঁকি


সৌদি আরবের পূর্ব দিক থেকে ইরান, দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং উত্তর দিক থেকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছরের সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল। অন্যদিকে, ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার জন্য ড্রোন পাঠিয়েছে। দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে কিংবা ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণব্যবস্থা ব্যবহার করে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শুধু রাজধানী রিয়াদ বা একটি তেল শোধনাগার রক্ষা করলেই চলে না। বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, পাইপলাইনসহ বিশাল এলাকার অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সুরক্ষিত রাখতে হয়। আকাশপথে আসা হামলা শনাক্ত করা, কোন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করা হবে তা নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য হাতে থাকে খুব অল্প সময়।


সৌদি আরবের একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে কিছু হামলা প্রতিরোধব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় কীভাবে মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষকে।

কৌশল বদলেছে হুথিরা


সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে হুথিরা এখন একসঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর এই কৌশল অনেকটা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার ধরনের সঙ্গে মিলে যায়।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে যায়। ফলে রাডারে এগুলো শনাক্ত করা এবং গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা নতুন প্রজন্মের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে, যেগুলো উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একাধিক দিক থেকে একসঙ্গে হামলা হলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।


তবে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে বাইরের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আট বছর আগে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে ইরানি উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সামরিক সরঞ্জাম ও চালকবিহীন আকাশযানের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

দুই বছর আগের এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানায়, হুথিদের কাছে বাইরের উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি পৌঁছানোর পরিমাণ, ধরন ও ব্যাপ্তি নজিরবিহীন। এর মধ্যে অর্থায়ন এবং যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের হাটেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের বেশ মিল রয়েছে। এগুলো দ্রুতগতির এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।


গত বছর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। বিশ্লেষক আমির বার শালোম সে সময় সিএনএনকে বলেছিলেন, প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের এমন নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্য।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, হুথিরা ইরানের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষার কিছু অস্ত্রও পরিবর্তন করে ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।


তেহরানের কথায় চলবে হুথিরা?

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্বাধীন কথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে পরিচিত হুথিরা। তবে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের কয়েকটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সংঘাতে দুর্বল হয়ে পড়লেও হুথিরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতেও হুথিদের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও হুথিদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনের হুতিনিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়। অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধের প্রভাবও অব্যাহত রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। এর কিছুদিন পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। প্রথম দিকে লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগার এবং কয়েকটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব যে বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েক শ কোটি ডলারও দাবি করছে তারা।

ইরান জানিয়েছে, রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত তেহরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত।

তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, সৌদি আরব মধ্যস্থতার প্রস্তাব গ্রহণ করলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তার বক্তব্য, এবারের সংঘাত আগের মতো নয়; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।

যুদ্ধ চালানো নাকি সমঝোতা—কঠিন সিদ্ধান্তে রিয়াদ

হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়লেও সৌদি আরব স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির নাগরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পরই রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।

রিয়াদের কয়েকজন বাসিন্দা সিএনএনকে জানিয়েছেন, পরে আবার সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার ফোনে সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পাওয়া যাচ্ছিল। একই দিন সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী জানান, চলতি সপ্তাহে তার সন্তানদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। হামলার আগের দিনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। সপ্তাহান্তে বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে হামলার পর একদিকে হুতিদের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে পাল্টা হামলা বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে হামলায় এক ডজনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর হুতিদের সঙ্গে সমঝোতা করা সৌদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে।

আবার ইয়েমেনে আরও জোরালো বিমান হামলা চালালে সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও বাড়তে পারে। এতে দেশটিকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ঝুঁকিতে রয়েছে শুধু তেলশিল্প নয়। তথ্যকেন্দ্র, সমুদ্রের পানি পরিশোধনাগার এবং বিমানবন্দর সৌদি আরবের প্রযুক্তি খাত, পানির সরবরাহ ও পর্যটন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে যুবরাজের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সৌদি আরবের সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে বড় বড় করপোরেশনের অংশগ্রহণে অনীহা দেখা গেছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে নিয়ে স্থল অভিযান চালিয়ে হুতিদের পরাজিত করাও সহজ হবে না। পাহাড়ি ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া হুথিরা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। গত এক মাসে তারা সরকারি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

গত বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার কোটি নয়, বরং ১০০ কোটির বেশি ডলার ব্যয় হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হুথিরা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হলেও ইয়েমেনে তাদের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোনও ভূপাতিত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাতেও হুথিদের নেতৃত্বকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এসব হামলায় কয়েকজন সামরিক কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ নিহত হলেও সংগঠনটি টিকে রয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, হুতিরা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীনিয়ন্ত্রিত তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ ঘিরে ফেলেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের অস্ত্রভান্ডারেও ঘাটতি রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমিয়ে দিয়েছে এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প খাতের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি, যদিও সেই সম্ভাবনা নাকচও করেননি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনীহা থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশটি তার মিত্রকে পরিত্যাগ করেছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার আগে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত র‍্যাটনি বলেছিলেন, সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে দেশটির পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেই কূটনীতি হয়তো নিখুঁত বা সন্তোষজনক হবে না, কিন্তু সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে পারে।

তবে এমন সমঝোতা হলে ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষমতা ও প্রভাব অক্ষুণ্ন থেকে যেতে পারে—এমনকি তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালীও হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন