বাঁশখালীতে বিধবাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

বাঁশখালীতে বিধবাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে

বাঁশখালীতে বিধবাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে বিধবা বোনকে বসতবাড়ি থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বিধবা নুরুন্নাহার বেগম। অভিযোগ আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর হাজির বাড়ির মৃত এলাদুর মেয়ে নিঃসন্তান ও বিধবা নুরুন্নাহার বেগম (৫০) স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বাবার বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ১০ বছর আগে বড় ভাই নুরুচ্ছাফার অংশে বিধবা নুরুন্নাহারকে একটি এনজিও বসতঘর নির্মাণ করে দেয়। সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

গত সোমবার সন্ধ্যায় তার আপন ভাই নুরুল আমিন, নুরুল আলম এবং ভাতিজা আনছার ও শাকিলের নেতৃত্বে তাকে মারধর করে বসতঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় তারা বসতঘরের দরজা-জানালা ও টিন কেটে ফেলে। নুরুন্নাহার বেগম জানান, এর আগেও বসতবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে ভাই ও ভাতিజারা মিলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করেন। এ নিয়ে থানা-পুলিশসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন বিধবা নুরুন্নাহার। অভিযোগ আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"




পটিয়ায় পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

পটিয়ায় পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামানা খাতুন নামের এক বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূও আহত হয়েছেন।

গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে বৃদ্ধা জামানা খাতুন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকখাইন জামে মসজিদসংলগ্ন একটি অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্য মো. হাসেমকে (৪৫) গালিগালাজ ও মারধর করেন। লাঠিসোঁটার আঘাতে তিনি আহত হন। পরে প্রাণভয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরদিন ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধা জামানা খাতুন ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে (২৮) গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

জামানা খাতুনের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজনের ঘুষিতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে হাত দিয়ে প্রতিহত করার সময় তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশে মারাত্মক চোট লাগে। এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বৃদ্ধা জামানা খাতুন বলেন, “সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযুক্তদের একজন নারগিছ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেছেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




পটিয়ায় ভূমি অফিসে দালাল আটক, ৪ দিনের কারাদণ্ড

পটিয়ায় ভূমি অফিসে দালাল আটক, ৪ দিনের কারাদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে দালালবিরোধী অভিযান চালিয়ে খোরশেদুল হক (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অফিসে অবৈধভাবে দালালি এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগে খোরশেদুল হককে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির উজ্জ্বল বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত ও দালালবিহীন সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক আইনজীবী জসীম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নামজারি, খাজনা ও দলিল সৃজন করার নামে প্রতারক চক্র পটিয়া ভূমি অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এ অভিযানের ফলে দালাল চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষ রেহাই পাবে।” তিনি নিয়মিত এ ধরনের প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করার আহ্বান জানান।

এদিকে পটিয়া ভূমি অফিসে অভিযান চালানোর পর দালাল চক্র গা-ঢাকা দিয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিতেই সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত হবেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।




কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে সাতকানিয়ায় সচেতনতামূলক সভা

কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে সাতকানিয়ায় সচেতনতামূলক সভা
ছবি সংগৃহীত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী এন.এ. চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুলতলা বাজার স্টেশন প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক অপু দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাস পুরকায়স্থ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাস পুরকায়স্থ বলেন, “কিশোর অপরাধ ও ইভটিজিং কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। তরুণ ও কিশোর সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইভটিজিং বা কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপসংস্কৃতি রুখতে উপজেলা প্রশাসন ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো অপরাধচক্রে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজরদারি রাখতে হবে। কিশোর গ্যাং বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” এ সময় অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, “ইভটিজিং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্কুলের সামনে বা যাতায়াতের পথে কেউ ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে তাঁর নম্বরে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যেকোনো সমস্যায় সরাসরি থানা-পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন। এতে আরও বক্তব্য দেন অভিভাবক সদস্য আবুল কালামসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।