সিআইপিআরবির সচেতনতামূলক মহড়া: সমুদ্রের মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরল ১ হাজার ৪৩ পর্যটক!

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। হাসি-আনন্দে ভরা সেই মুহূর্তের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সাগরের ভয়ংকর রিপ কারেন্ট বা স্রোতের ঝুঁকি। আর সেই ঝুঁকি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।
২৫ জুলাই কক্সবাজারে পালন করা হয় বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস। শনিবার সকালে সমুদ্রসৈকতে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর সি-সেইফ প্রকল্প। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় সচেতনতামূলক র্যালি ও লাইফগার্ডদের উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনী।
সমুদ্রে নামার আগে নির্দেশনা মেনে চললে পানিতে ডুবে মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সি-সেইফের ফিন্যান্স অ্যান্ড এডমিন অফিসার হাফেজ আহমেদ।
সি-সেইফ লাইফগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ বছরে কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সৈকত এলাকায় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া অন্তত ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করেছেন ২৭ জন লাইফগার্ড। একই সময়ে গুপ্তখাল ও সাগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬৫ জনের মরদেহও উদ্ধার করতে হয়েছে তাঁদের।
পর্যটকরা বলছেন, অতিউৎসাহী হয়ে দিকনির্দেশনা না মানায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে; তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমুদ্রে নামার আগে লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁরা জানান, লাল পতাকা উড়লে কোনোভাবেই পানিতে নামা উচিত নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শিশুদের কখনো একা পানিতে যেতে দেওয়া যাবে না। সামান্য অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।









