ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নে হরতাল, ভূজপুরে আনন্দ মিছিল, সুয়াবিলে ক্ষোভ

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ছয় ইউনিয়নে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সদর দপ্তর পুনর্নির্ধারণের দাবিতে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়নহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা রোববার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভূজপুরে আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসা সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারাও তাদের ক্ষোভ বজায় রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি গেজেটে সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নির্ধারণের পর থেকেই তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সিদ্ধান্তটিকে ‘ভৌগোলিকভাবে অযৌক্তিক’ বলে দাবি করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান অবস্থানে সদর দপ্তর থাকলে উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রশাসনিক সেবা নিতে হবে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবিতে এর আগে একাধিক দফা হরতাল, মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ বা সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনকারী ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আন্দোলন কোনো ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নয়; বরং এমন একটি সদর দপ্তরের দাবিতে, যা ছয় ইউনিয়নের মানুষের জন্য সমানভাবে সহজপ্রাপ্য হবে।
অন্যদিকে, সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় ভূজপুর ইউনিয়নে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে আনন্দ মিছিল বের হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এইচ এম শাহজাহান চৌধুরী শিপন, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা মূল ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গেই থাকতে চান এবং নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় যেতে নারাজ। ফলে শুরু থেকেই তারা এই উত্তর উপজেলা গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে সুয়াবিলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। এ কারণে তাঁরা ইতিমধ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে তাঁদের দাবির প্রতিও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ সেই উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব অংশীজনের মতামত ও বাস্তব যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও জাতীয় সমন্বয়-সংক্রান্ত কমিটির (নিকার) অনুমোদনের পর গত ৮ জুলাই প্রকাশিত সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়নহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠিত হয়। তবে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।








