লোহাগাড়ার আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক আইনজীবীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী উপল কান্তি নাথ (৩৭) মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি দণ্ডবিধির ৩৮৫/৫০৬(২) ধারায় এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে লোহাগাড়া থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী আইনজীবী উপল কান্তি নাথ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তার পিতার ক্রয়কৃত সম্পত্তির সাব-কবলা রেজিস্ট্রি করতে আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। এ সময় মো. আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মুন্সী (৫০) নিজেকে দলিল লেখক সমিতির নেতা পরিচয় দিয়ে সমিতির আওতার বাইরে কেউ রেজিস্ট্রি করলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার আইন পেশা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাশেম মুন্সী মূলত একজন মুন্সীর সহকারী। তার এমন আচরণে অফিসের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। একজন আইনজীবীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযুক্ত আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মুন্সী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। টিপসই নেওয়ার সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
লোহাগাড়া দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে একজন আইনজীবীকে হেনস্তা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া অভিযুক্ত কাশেমের দলিল লেখকের সনদও নেই বলে তিনি দাবি করেন।
আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান বলেন, আইনজীবী একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসেছিলেন। টিপসই নেওয়ার সময় এক মুন্সীর সহকারী কাশেমের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা মর্মাহত।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, আইনজীবীকে হেনস্থা ও চাঁদাদাবীর অভিযোগে আদালত থেকে থানায় কোন কাগজপত্র আসনি। যদি আসে আদালতের নির্দশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় লোহাগাড়ায় আইনজীবী ও দলিল লেখক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।