সাঈদীর ওপর হামলার প্রতিবাদে চকরিয়ায় ক্রীড়াবিদদের মানববন্ধন
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন

সাঈদীর ওপর হামলার প্রতিবাদে চকরিয়ায় ক্রীড়াবিদদের মানববন্ধন

সাঈদীর ওপর হামলার প্রতিবাদে চকরিয়ায় ক্রীড়াবিদদের মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

মহেশখালী উপজেলা ও কক্সবাজার জেলা দলের গোলরক্ষক এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক খেলোয়াড় সাজিবুল ইসলাম সাঈদীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে চকরিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া নিউ মার্কেটের সামনে চকরিয়া উপজেলা সর্বস্তরের খেলোয়াড় সমিতির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়, সাবেক ফুটবলার, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার টিম ম্যানেজার মামুনুর রশিদ মামুন, কোচ জমির উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ফুটবলার ও কোচ আবছার এবং জাতীয় রেফারি রমিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, সাজিবুল ইসলাম সাঈদী চকরিয়া-মহেশখালীসহ কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনের একজন পরিচিত ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তার ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ একজন আটক

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ একজন আটক
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জসিম উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারের পূর্ব পাশে রাসেল কম্পিউটারের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিনকে আটক করে। আটক ব্যক্তি কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীকাটা এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ কার্ড ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক পরিমাণ ৬০ হাজার পিস। এ ছাড়া ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।

আটক জসিম উদ্দিন ও উদ্ধার করা ইয়াবা নাইক্ষ্যংছড়ি থানা হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, মাদকের অবৈধ সরবরাহ, পরিবহন ও বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




চকরিয়ায় বৃত্তির পুরস্কার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, বিক্ষোভ ও অবরোধ

চকরিয়ায় বৃত্তির পুরস্কার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, বিক্ষোভ ও অবরোধ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি-২০২৫’ পরীক্ষায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরস্কার না দেওয়ার অভিযোগে শত শত অভিভাবক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা আয়োজকদের প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একই সঙ্গে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলও দুই ধাপে প্রকাশ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পর পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হলেও সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়।

অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের স্থান দুই দিন আগে চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন সকালে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্থান পরিবর্তন করে রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। ফলে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী বিষয়টি জানতে না পেরে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে পারেননি।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না এবং পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পুরস্কার না পেয়ে এবং অনুষ্ঠানস্থলে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।

বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি, বৃত্তির নামে প্রতারণা ও ব্যবসা বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরস্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি’র পরিচালক ও আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশন, কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাফর আমিনের তত্ত্বাবধানে এ বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে আয়োজক পক্ষের সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

অভিভাবকরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বৃত্তির নামে অনিয়ম বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




নকল বালাইনাশক প্রয়োগে মুলা-ধনে খেত পুড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

নকল বালাইনাশক প্রয়োগে মুলা-ধনে খেত পুড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাবলিক স্কুলসংলগ্ন চরে নকল ওষুধ প্রয়োগের পর মুলা ও ধনেপাতা খেত পুড়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোর্শেদ আলমের মুলা খেত এবং বেলাল উদ্দিনের ধনেপাতা খেত পুড়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে। কৃষকদের দাবি, পচন রোধের জন্য গত সপ্তাহে বেতুয়া বাজারের ‘আলতাফ স্টোর’ থেকে অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইপরোজিম’ নামের ওষুধ কিনে খেতের ফসলে ছিটানো হয়। এরপরই খেতের ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে খেতের ফসল পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও কোম্পানির প্রতিনিধির যোগসাজশে নকল বালাইনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের পর ফসলের এমন ক্ষতি হলেও এক সপ্তাহ ধরে বিষয়টির কোনো সমাধান করা হয়নি।

কৃষকদের দাবি, অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চকরিয়ার ডিলার আলতাফ হোসেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিষয়টি তদন্ত করে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চকরিয়ার ডিলার আলতাফ হোসেন ও কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, ঘটনাটি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন করে বালাইনাশকটি ল্যাব টেস্টের জন্য কোম্পানির কাছে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।