নকল বালাইনাশক প্রয়োগে মুলা-ধনে খেত পুড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন

নকল বালাইনাশক প্রয়োগে মুলা-ধনে খেত পুড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

নকল বালাইনাশক প্রয়োগে মুলা-ধনে খেত পুড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাবলিক স্কুলসংলগ্ন চরে নকল ওষুধ প্রয়োগের পর মুলা ও ধনেপাতা খেত পুড়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোর্শেদ আলমের মুলা খেত এবং বেলাল উদ্দিনের ধনেপাতা খেত পুড়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে। কৃষকদের দাবি, পচন রোধের জন্য গত সপ্তাহে বেতুয়া বাজারের ‘আলতাফ স্টোর’ থেকে অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইপরোজিম’ নামের ওষুধ কিনে খেতের ফসলে ছিটানো হয়। এরপরই খেতের ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে খেতের ফসল পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও কোম্পানির প্রতিনিধির যোগসাজশে নকল বালাইনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের পর ফসলের এমন ক্ষতি হলেও এক সপ্তাহ ধরে বিষয়টির কোনো সমাধান করা হয়নি।

কৃষকদের দাবি, অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চকরিয়ার ডিলার আলতাফ হোসেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিষয়টি তদন্ত করে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অরণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চকরিয়ার ডিলার আলতাফ হোসেন ও কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, ঘটনাটি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন করে বালাইনাশকটি ল্যাব টেস্টের জন্য কোম্পানির কাছে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।




কক্সবাজারে ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা

কক্সবাজারে ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার শহরতলির ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকায় ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে পুরো চারটি পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে সাবের আহমেদের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু চক্র। তাদের নিপীড়ন ও হুমকি-ধমকি সইতে না পেরে ওই পরিবারের এক সদস্য হায়দর আলী তার পাঁচ কন্যাসন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার শহরে এসে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। হায়দর আলীর দুই বোন অন্যত্র থাকলেও এক ভাই খরুলিয়ার ওই জমিতে থাকেন। কিন্তু তিনি প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকিসহ নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এমনকি তাকে তাদের চলাচলের পথ ব্যবহারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন হায়দর আলী ও তার ছোট বোন সেলিনা আকতার।

তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের দাদি আবেদা খাতুনের ওয়ারিশি সম্পত্তি পাচ্ছেন তার ছেলে মৃত আলী আকবরের ওয়ারিশ হিসেবে হায়দর আলী ও তার তিন ভাই-বোন। কিন্তু তাদেরই নিকটাত্মীয় সাবের আহমেদ, ইউছুপ আলী, সলিমুল্লাহ, নাছির উদ্দিন, আনছার, শামশুল আলম, ইউনুছ ও ছালেহা বেগমসহ একটি চক্র তাদের সম্পত্তি জবরদখল করে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

হায়দর আলী বলেন, "আমাদের বাবার মৃত্যুর পর দাদির সম্পত্তির ওয়ারিশ হয়েছি আমরা। ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সব সম্পত্তি আমাদের নামে খতিয়ানও হয়েছে। কিন্তু ওই জবরদখলকারী চক্রটি আমাদের জমি জবরদখল করে উল্টো আমাদেরই ভিটা ও জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য ছলে-বলে-কৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"

সেলিনা আকতার বলেন, "টাকার গরম ও শারীরিক বল দেখিয়ে চক্রটি অনেক দিন আগে আমাদের সব জমি অল্প টাকায় কিনে নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আমরা সেই জমি তাদের দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের পেছনে লেগেছে।"

তিনি আরও বলেন, "সাবের আহমেদ আমাদের জমি দখল করে দালানঘর নির্মাণ করে ফেলেছেন। আমাদের জমির ন্যায্যমূল্য দেবেন বলে কয়েক বছর ধরে প্রতারণা করে চলেছেন। উল্টো তারা সবাই মিলে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা করছে।"

এ বিষয়ে ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে হায়দর আলীর পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হওয়ায় চক্রটি তাদের নির্যাতন-নিপীড়ন করছে এবং ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছে।




জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৮ হাজার ৮৫৬টি গাছের চারা বিতরণ

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৮ হাজার ৮৫৬টি গাছের চারা বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার সদর ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ৮ হাজার ৮৫৬টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক সহায়তায় এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ (আরএইচএল)’ প্রকল্পের আওতায় এসব চারা বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় কুতুবদিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ২৬৯ জন উপকারভোগীর মাঝে ৩ হাজার ৪৯০টি এবং সামাজিক বনায়নের উদ্দেশ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা, মসজিদ, স্কুল ও কলেজ) আরও ১ হাজার ৭৫টিসহ সর্বমোট ৪ হাজার ৫৬৫টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে ১৮৬ জন উপকারভোগীর মাঝে ২ হাজার ১৪৫টি এবং সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ১৩৭টিসহ সর্বমোট ৪ হাজার ২৯১টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত চারা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে উপকারভোগীদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে চারা রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের আরএইচএল প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। আর এই লক্ষ্যেই আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।




মাতামুহুরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, শ্যালো মেশিন জব্দ ও জরিমানা

মাতামুহুরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, শ্যালো মেশিন জব্দ ও জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সেকান্দরপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি শ্যালো মেশিন ও কয়েকটি পাইপ জব্দ করেছেন। একই অভিযানে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইন দিয়ে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে এক লাইনম্যানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে সেকান্দরপাড়া এলাকা থেকে একটি শ্যালো মেশিন ও কয়েকটি পাইপ জব্দ করা হয়।

অপর এক অভিযানে সোসাইটি জামে মসজিদের পাশে প্রধান সড়কে অটোরিকশার লাইন বসিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও যানজট সৃষ্টির অপরাধে লাইনম্যান ইসমাইলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাতামুহুরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল মনছুর, পেশকার সৈকত রুদ্র ও আনসার সদস্যরা।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।