চকরিয়ায় বৃত্তির পুরস্কার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, বিক্ষোভ ও অবরোধ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি-২০২৫’ পরীক্ষায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরস্কার না দেওয়ার অভিযোগে শত শত অভিভাবক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা আয়োজকদের প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একই সঙ্গে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলও দুই ধাপে প্রকাশ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পর পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হলেও সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের স্থান দুই দিন আগে চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন সকালে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্থান পরিবর্তন করে রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। ফলে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী বিষয়টি জানতে না পেরে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে পারেননি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না এবং পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পুরস্কার না পেয়ে এবং অনুষ্ঠানস্থলে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।
বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি, বৃত্তির নামে প্রতারণা ও ব্যবসা বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরস্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি’র পরিচালক ও আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশন, কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাফর আমিনের তত্ত্বাবধানে এ বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে আয়োজক পক্ষের সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
অভিভাবকরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বৃত্তির নামে অনিয়ম বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।









