সাইবার হুমকিতে কর্মস্থলে অনিয়মিত মানবিক চিকিৎসক, বিপাকে শত শত রোগী
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

সাইবার হুমকিতে কর্মস্থলে অনিয়মিত মানবিক চিকিৎসক, বিপাকে শত শত রোগী

সাইবার হুমকিতে কর্মস্থলে অনিয়মিত মানবিক চিকিৎসক, বিপাকে শত শত রোগী
ছবি সংগৃহীত।

পিতৃহীন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ২৫০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী। সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির পর তিনি হাসপাতালে অনিয়মিত। তাঁকে ফিরে পেতে চান রোগী ও সহকর্মীরা।

১৪ বছরের সাখাওয়াত হোসেন মাহিন। পাঁচ বছর বয়সে ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া। সেই থেকে প্রতি মাসে তাকে রক্ত নিতে হয়। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক জীবন কাটানোর বয়সে নিয়মিত চিকিৎসা আর রক্ত নেওয়াই তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বাবা নেই। ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন মা বিলকিস আক্তার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

এই কঠিন সময়ে মাহিনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। প্রতি মাসে মাহিনের রক্ত নেওয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়। ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতেন তিনি। পিতৃহীন শিশুটির চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন এই চিকিৎসক।

মাহিনের মা বিলকিস আক্তার বলেন, “ডা. জয়নাল স্যার আছেন বলেই মাহিনের চিকিৎসা করাতে পেরেছি। এখন তিনি হাসপাতালে আসেন না, তাই খুব কষ্টে পড়েছি। মোবাইল ফোনে তাঁর পরামর্শ নিয়েই মাহিনের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।”

মাহিনের মতো অনেক রোগীর কাছেই ডা. জয়নাল মুহুরী শুধু একজন চিকিৎসক নন, ভরসার মানুষ। তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ২৫০ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন তিনি। এতে জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও সহযোগিতা করে।

কিন্তু সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে সেই চিকিৎসকই এখন কর্মস্থলে অনিয়মিত। তাঁর অনুপস্থিতিতে উদ্বেগে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও স্বজনেরা।

গত ৭ সেপ্টেম্বর চাকরি ছাড়ার লিখিত আবেদন জমা দেন ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। কর্তৃপক্ষ তাঁকে অব্যাহতি দেয়নি। আবেদনটি পুনর্বিবেচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে এরপর থেকে নিয়মিত হাসপাতালে আসছেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকেরা।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেন। তাঁদের প্রায় ১০ শতাংশই শিশু। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি শিশু আসে এখানে। উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে মূল ভরসা ছিলেন ডা. জয়নাল মুহুরী।

রোগী ও স্বজনদের কাছে তিনি পরিচিত একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হলেও তিনি সব ধরনের রোগী দেখতেন। মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শুনতেন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতেন না। অসহায় রোগীদের কখনো কখনো নিজের পকেট থেকেও আর্থিক সহায়তা করেছেন। এসব কারণে ফটিকছড়ির অনেক মানুষের কাছে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত।

করোনা মহামারির সময়ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন তিনি। একপর্যায়ে নিজেও আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসেন রোগীদের কাছে।

মো. আলী নামের এক বাবা জানান, তাঁর শিশুসন্তান দীর্ঘদিন নানা অসুখে ভুগছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও ফল পাননি। পরে ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরীর চিকিৎসা নেন। মো. আলী বলেন, “এই ডাক্তারের চিকিৎসা আর ওষুধে আল্লাহ সন্তানকে সুস্থ রেখেছেন। আমি নামাজ পড়ে ওনার জন্য দোয়া করি, যেন তিনি ভালো থাকেন, এভাবে মানুষের সেবা করতে পারেন।”

শাকিলা জাহানও এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু ডা. জয়নালকে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, “উনি না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। উনার আচরণ খুব ভালো। আমরা চাই তিনি আবার স্বপদে ফিরে আসুন।”

রোগী ও সহকর্মীদের দাবির মুখে ডা. মুহুরীকে আবার নিয়মিত হাসপাতালে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল আলম।

তিনি বলেন, “মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তিনি উপজেলায় পরিচিত। এটা স্বাস্থ্যসেবার জন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণে তাঁর মতো একজন চিকিৎসক হেরে গেলে সেটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য রেখেছে।”

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, “সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।” তিনি জানান, রোগী ও সহকর্মীদের অনুরোধের পর ডা. মুহুরী শিগগিরই তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ফিরবেন কি না, জানতে চাইলে ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী, রোগী আর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী স্বপদে ফিরতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনো ভাবিনি। আশা করছি, একদিন সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

একদিকে সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রোগী ও সহকর্মীদের ফিরে আসার অনুরোধ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ডা. জয়নাল মুহুরী।




মানুষটি নেই, রয়ে গেছে স্বপ্ন; কবরের পাশেই হচ্ছে জামে মসজিদ

মানুষটি নেই, রয়ে গেছে স্বপ্ন; কবরের পাশেই হচ্ছে জামে মসজিদ
ছবি সংগৃহীত।

বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন লিয়াকত আলী মুন্সি—এলাকার মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য নির্মাণ করবেন একটি সুন্দর জামে মসজিদ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের সামর্থ্য থেকে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরু উদ্দিন নুরুর হাতে। কিন্তু মসজিদ নির্মাণ শেষ দেখে যেতে পারেননি তিনি; এক মাস আগে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। তবে মানুষটি না থাকলেও রয়ে গেছে তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন নুরু উদ্দিন নুরু।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ফেনুয়াবিল পূর্ব টিলা পাড়ায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ইবাদতখানার স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন জামে মসজিদ। প্রয়াত লিয়াকত আলী মুন্সির স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরু উদ্দিন নুরু, মোহাম্মদ সাইফু উদ্দিন মানিক, মোহাম্মদ বাহাদুর, মোহাম্মদ ইলিয়াছ কোম্পানি, আক্তার সওদাগরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, “লিয়াকত আলী মুন্সি একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আয়ু তাঁকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন যুবদল নেতা নুরু উদ্দিন। এ উদ্যোগের জন্য তাঁকে শুভকামনা জানাই।”

নুরু উদ্দিন নুরু বলেন, “মুন্সি সাহেব আমাকে খুব মূল্যায়ন করতেন, স্নেহ করতেন। তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে গেছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, এক মাসের মধ্যেই মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করব।”

মসজিদ নির্মাণে প্রয়াত লিয়াকত আলী মুন্সির পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মানুষের জীবদ্দশায় দেখা স্বপ্ন তাঁর মৃত্যুর পরও অন্যের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। নতুন এই মসজিদ শুধু এলাকার মানুষের ইবাদতের স্থানই হবে না, হয়ে থাকবে লিয়াকত আলী মুন্সির একটি স্বপ্নের অমলিন স্মৃতিচিহ্ন।




ফটিকছড়িতে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ঋণ পেলেন তরুণ উদ্যোক্তারা

ফটিকছড়িতে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ঋণ পেলেন তরুণ উদ্যোক্তারা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি যুবকদের মধ্যে ঋণের চেক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদের শফিকুন নুর মওলা হলে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল মোমেন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রব, ফটিকছড়ি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দে, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মো. মহিন উদ্দিন, যুবদল নেতা প্রিন্স ওমর ফারুক ও সাইফুল হায়দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উদ্যোক্তা, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পল্লবী খাস্তগীর।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “যুবসমাজ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকাশক্তি। দক্ষতা অর্জন, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

অনুষ্ঠান শেষে নারী উদ্যোক্তা ফারহানা ইয়াসমিন, যুব উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন, সাজেদা আনোয়ার ফাউন্ডেশন, জমিদারপাড়া যুব সংঘসহ কয়েকজনের হাতে ঋণের চেক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।




চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান: মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান: মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আন্তজেলা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভুজপুর থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি মাইক্রোবাস, দুটি ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ব্যাটারির বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩১ আগস্ট ভোরে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর থানাধীন হেঁয়াকো বাজার এলাকায় গ্রামীণফোনের একটি মোবাইল টাওয়ারের বিটিএস (বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন) কক্ষের তালা ভেঙে চারটি ব্যাটারি চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক দিন আগে একই থানার গার্ডের বাজার এলাকার অপর একটি টাওয়ার থেকে ছয়টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ গত ৭ অক্টোবর ভুজপুর থানায় মামলা করে।

মামলার তদন্তে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন— মো. সোহাগ (৩৪), সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলু (৩২), মো. শামসুদ্দিন (৪১), মো. মোজাম্মেল হক (৩২) ও মো. ইউনুস (৪২)। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

পরে ২৮ অক্টোবর আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (৪৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে আরও একটি মাইক্রোবাস এবং দুটি চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সোহাগ, মো. শামসুদ্দিন ও মো. মোজাম্মেল হকের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার নাউটি এলাকায়; সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলুর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার নুরারচর এলাকায়; মো. ইউনুসের বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ঘোষগাঁও এলাকায় এবং মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও ঠাকুরপাড়া এলাকায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি ভিশন ৪৮ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি (যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা) এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম।

চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ব্যাটারি উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।