চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান: মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ...
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান: মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান: মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আন্তজেলা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভুজপুর থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি মাইক্রোবাস, দুটি ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ব্যাটারির বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩১ আগস্ট ভোরে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর থানাধীন হেঁয়াকো বাজার এলাকায় গ্রামীণফোনের একটি মোবাইল টাওয়ারের বিটিএস (বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন) কক্ষের তালা ভেঙে চারটি ব্যাটারি চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক দিন আগে একই থানার গার্ডের বাজার এলাকার অপর একটি টাওয়ার থেকে ছয়টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ গত ৭ অক্টোবর ভুজপুর থানায় মামলা করে।

মামলার তদন্তে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন— মো. সোহাগ (৩৪), সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলু (৩২), মো. শামসুদ্দিন (৪১), মো. মোজাম্মেল হক (৩২) ও মো. ইউনুস (৪২)। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

পরে ২৮ অক্টোবর আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (৪৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে আরও একটি মাইক্রোবাস এবং দুটি চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সোহাগ, মো. শামসুদ্দিন ও মো. মোজাম্মেল হকের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার নাউটি এলাকায়; সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলুর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার নুরারচর এলাকায়; মো. ইউনুসের বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ঘোষগাঁও এলাকায় এবং মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও ঠাকুরপাড়া এলাকায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি ভিশন ৪৮ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি (যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা) এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম।

চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ব্যাটারি উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




ফটিকছড়িতে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা নিলেন তিন শতাধিক রোগী

ফটিকছড়িতে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা নিলেন তিন শতাধিক রোগী
ছবি সংগৃহীত।

চোখের নানা সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করেছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফিনিক্স। বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈয়ারহাট এলাকায় নজরুল আদর্শ সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তিন শতাধিক মানুষ চক্ষু চিকিৎসা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সেবা নেন।
কর্মসূচিতে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন প্রায় ৫০ জন রোগীর চোখের অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুর্তজা রেজা হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসিম হায়দার।
আয়োজকেরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। নজরুল আদর্শ সংঘের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. দীপক কুমার রায়, ডা. এস কে রায় নান্টু, ডা. অজিত চন্দ্র দে, সাবেক কাউন্সিলর এহসানুল করিম, ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম এবং বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংকের জোনাল হেড মুজতবা আলী হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফিনিক্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রিজিয়ন চেয়ারপারসন (হেডকোয়ার্টার অ্যাডমিন) লায়ন মো. মাহাবুবুল ইসলাম, লায়ন আব্দুল্লাহ আল কাদের, রিজিয়ন চেয়ারপারসন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার চৌধুরী, উপদেষ্টা লায়ন ইঞ্জিনিয়ার হোসেন ইমাম, ক্লাব সেক্রেটারি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার শেখ কাওছার মাছুম, জোন চেয়ারপারসন লায়ন মো. মামুনুর রশিদ (এমজেএফ), ট্রেজারার লায়ন ওমর ফারুক ও ডিস্ট্রিক্ট অবজারভার লায়ন মো. কামরুল হাসান।
নজরুল আদর্শ সংঘের সভাপতি মাহফুজুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানবীর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যকরী পরিষদ, স্থায়ী পরিষদ ও স্কাউট দলের সদস্যরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।




ফটিকছড়ির হেঁয়াকোতে টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে সুয়াবিলে আটক ৫

ফটিকছড়ির হেঁয়াকোতে টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে সুয়াবিলে আটক ৫
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো এলাকায় মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চুরির চেষ্টা চালিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করে নাজিরহাট পৌরসভার সুয়াবিল টেকের দোকান এলাকা থেকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি নোহা গাড়ি নিয়ে পাঁচ ব্যক্তি হেঁয়াকো এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তাঁরা ধাওয়া দেন। এ সময় ওই ব্যক্তিরা গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে ধাওয়া করে নাজিরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুয়াবিল টেকের দোকান এলাকায় গাড়িসহ তাঁদের আটকে ফেলেন স্থানীয়রা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকার কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম শিমুল (৩২), কুমিল্লার লাকসামের মৃত রফিকের ছেলে সামশু উদ্দিন (৪১), একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোজাম্মেল হক (৩২), চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের সিরাজুলের ছেলে ইউনুস (৪২) এবং কুমিল্লার লাকসামের তৈয়ব আলীর ছেলে সোহাগ (৩৪)।

খবর পেয়ে উদালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জ্যোতিষ চন্দ্র দেব ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে ভূজপুর থানায় নিয়ে যান।

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা পাঁচজনকে আটক করেন। পরে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”




ফটিকছড়িতে একদিনে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ, সবুজায়নে নতুন উদ্যোগ

ফটিকছড়িতে একদিনে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ, সবুজায়নে নতুন উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক দিনে সাত হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার আয়োজনে বারৈয়ারহাট এলাকার উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘এক দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

কর্মসূচিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব চারা রোপণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “একটি চারা রোপণ করা মানে শুধু একটি গাছ লাগানো নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, নিরাপদ পরিবেশ ও সবুজ পৃথিবীর ভিত্তি তৈরি করা। তবে বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে চারাগুলো বাঁচিয়ে রাখা এবং সঠিক পরিচর্যার ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মাধ্যমে ফটিকছড়িকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এক দিনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে রূপ দিতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”