শনিবার খোলা থাকবে সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

শনিবার খোলা থাকবে সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

শনিবার খোলা থাকবে সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
ছবি সংগৃহীত।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে।    

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে, ৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নবমী উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবারও) নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

তবে, ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।




এআইয়ের ঝুঁকি সামলানোর তাগিদ আইএমএফের

এআইয়ের ঝুঁকি সামলানোর তাগিদ আইএমএফের
ছবি সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, ব্যবসার দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এআইয়ের কার্যকর বিস্তার ঘটাতে সময় লাগবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বাজারে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে এমন আলোচনা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইড ইভেন্টে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এআই এন্ড দ্যা গ্লোবাল ইকোনমি: ফ্রম রিক্স টু অপরচুনিটি শীর্ষক এ প্যানেল আলোচনায় নীতিনির্ধারক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং প্রযুক্তি খাতের নেতারা এআইয়ের প্রভাব, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে কাজের দক্ষতা বাড়ানোর কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও বৃহৎ পরিসরে অর্থনীতিতে রূপান্তরমূলক প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন প্রযুক্তি নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে তার সুফল পেতে সময় লাগে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সিএনএনের উপস্থাপক ও সংবাদদাতা রিচার্ড কোয়েস্ট। এতে আরও অংশ নেন ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম এবং এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নীতিবিষয়ক প্রধান জ্যাক ক্লার্ক।

এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনায় ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, প্রযুক্তিটির প্রাথমিক ব্যবহার থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু উন্নতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এখনো বৃহৎ পরিসরে এমন পরিবর্তন আসেনি, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে শুরুতে অনেক উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়। মানুষ দ্রুত সুফল পেতে চায়। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তির বিস্তার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে এর সমন্বয় এবং কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সময় লাগে। ফলে স্বল্প সময়ে প্রত্যাশিত সুফল না এলে হতাশা তৈরি হতে পারে।

জর্জিয়েভিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে প্রযুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এগোনো প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুফল পেতে সময় লাগার বিষয়টি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নতুন প্রযুক্তি চালুর পরপরই সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবস্থার সমন্বয় করতে হয়। এসব প্রস্তুতি ছাড়া শুধু এআই ব্যবহারের ঘোষণা দিলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলোচনায় ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উত্থান-পতনের উদাহরণ সামনে আসে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ঘিরে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডটকম বুদ্‌বুদের পতনে অনেক কোম্পানি ব্যবসা হারায় এবং বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ইন্টারনেট প্রযুক্তি অর্থনীতি ও সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেন, কোনো প্রযুক্তির সফলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পৃথক কোম্পানির সাফল্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, ডটকম যুগে বড় ধরনের উত্থান ও পতন ঘটেছিল। অনেক কোম্পানি টিকে থাকতে পারেনি এবং অনেক বিনিয়োগকারী অর্থ হারিয়েছেন। কিন্তু ইন্টারনেট একটি অসাধারণ প্রযুক্তি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে এবং সমাজের ব্যাপক উপকার করেছে।

ম্যাকলেমের বক্তব্যে উঠে আসে, প্রযুক্তির বাজারে উত্থান-পতন ঘটলেও তার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় না। তবে প্রযুক্তির বিকাশ এমনভাবে পরিচালনা করা জরুরি, যাতে অপ্রয়োজনীয় বড় ধাক্কা এড়ানো যায়।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা, বিপুল বিনিয়োগ এবং দ্রুত মুনাফার আকাঙ্ক্ষা বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই এআইয়ের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও আর্থিক ঝুঁকির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এআইয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নীতিবিষয়ক প্রধান জ্যাক ক্লার্ক বলেন, প্রচলিত প্রযুক্তির সঙ্গে এআইয়ের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন যন্ত্রপাতি, মাইক্রোস্কোপ কিংবা বড় কম্পিউটার কেনার পর সেগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু এআই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করার পরই কাজের ধরন বুঝে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে।

ক্লার্কের মতে, এ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশার চেয়েও আগে বাড়তে পারে। এআই শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে কাজ করে না; বরং বিভিন্ন ধরনের কাজ বুঝতে, সেগুলো সম্পন্ন করতে এবং মানুষের কর্মপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিকাশ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছে। আগামী বছরগুলোতে এসব পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিটিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং তাদের কাজের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পারছে, তার ওপর।

চ্যাটবট থেকে এআই এজেন্ট

এআইয়ের ব্যবহার আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এজেন্টভিত্তিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন জ্যাক ক্লার্ক। তিনি বলেন, অ্যানথ্রপিক এমন একটি সাধারণ প্রযুক্তি তৈরি করতে কাজ করছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। প্রযুক্তিটিকে সহজে কাজে লাগানো এবং এর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনও তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ চ্যাটবটের বাইরে গিয়ে এআই এজেন্টের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের সঙ্গে শুধু কথোপকথন করার পরিবর্তে এজেন্টভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড কোড’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাধারণ চ্যাটবট ইন্টারফেস থেকে এজেন্টভিত্তিক ইন্টারফেসে যাওয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রযুক্তি কর্মীদের কাজের গতি বাড়াতে, জটিল কাজের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সময় ও সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে এসব সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য এআইয়ের ফলাফল যাচাই, ভুল শনাক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের তদারকি নিশ্চিত করাও জরুরি।

এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির বিস্তারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমবাজারে পরিবর্তন, প্রযুক্তির সুবিধা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা। এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে কিছু কাজ দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে কর্মীদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। ফলে কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ সবার সমান নয়। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির সুবিধা বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এআইয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিটি নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। আবার এর অপব্যবহার নতুন ধরনের সাইবার আক্রমণ ও প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনও বাড়বে।

এ কারণে এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারকে শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাজারের প্রতিযোগিতা এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা

এআই নিয়ে আইএমএফের আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রশাসনে এআইয়ের ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তৈরি পোশাকশিল্পে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ, উৎপাদন পরিকল্পনা, পণ্যের মান যাচাই, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার করা সম্ভব। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সময় বাঁচানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেও এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। গ্রাহকের লেনদেন বিশ্লেষণ, সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম শনাক্ত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নে প্রযুক্তিটি সহায়তা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিতে আবহাওয়া, মাটির অবস্থা, ফসলের রোগবালাই ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়ে সহায়ক বিশ্লেষণ, রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনায় এআই ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেখার উপকরণ তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও বাড়তে পারে।

সরকারি প্রশাসনেও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ, নাগরিক সেবার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং অভিযোগের ধরন শনাক্ত করার মতো কাজে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে সেবার গতি বাড়ানো সম্ভব। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি, তথ্যের নিরাপত্তা এবং নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকলে এর সুফল সীমিত থেকে যেতে পারে। তাই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থায় ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, তথ্যের সুরক্ষা এবং উপযুক্ত নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুযোগ পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পেলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।

শ্রমবাজারের পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। এআই কিছু কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, আবার নতুন ধরনের কাজ ও পেশার সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, পুনঃদক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থান নীতিতে সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন।

এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু প্রযুক্তি খাত বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সুফল উৎপাদনশীলতা, উন্নত সেবা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আইএমএফের বার্ষিক সভার এ আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআইয়ের সম্ভাবনা যেমন ব্যাপক, তেমনি এর সুফল পেতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা, কার্যকর প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না; প্রতিষ্ঠান, কর্মী ও অর্থনীতির সঙ্গে এর কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সরকারি সেবার দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ না থাকলে এর সুফল সীমিত হতে পারে। বিশ্ব যখন এআইনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সময়মতো খাপ খাইয়ে নেওয়া। একইসঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কল্যাণের পরিপূরক হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির তাৎক্ষণিক ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়াই এআইয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।




বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ: অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সংকট মোকাবিলায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ: অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সংকট মোকাবিলায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ।

এরই মধ্যে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষের দল বসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার ফাঁকে এসব আলোচনা হয়। কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো উঠে আসে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষের দল বসে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত কাজ করবে। এরপর আলোচনা শেষে বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বছরটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের নতুন অংশীদারত্ব ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির বিভিন্ন ইস্যু চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে সমস্যা না থাকলেও আলোচনা শেষে যৌথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে বিষয়গুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

দিনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ, আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যাংক খাতে সংস্কার

এদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করার বিষয়ে আইএমএফের পরামর্শের সঙ্গে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি, কর অব্যাহতি ও কর জালিয়াতির কারণে রাজস্ব আহরণ বাড়েনি।

তিতুমীরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং রাজস্ব আহরণে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। বর্তমান সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ।

তিনি বলেন, অতীতে আইএমএফের কর্মসূচিতে থেকেও কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। সে সময় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমান সরকার সরকারি হিসাব যাচাইযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আইবাসসহ সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব ফলাফল দেখাতে হবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসের ব্যাখ্যায় তিতুমীর বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে অর্থনীতির যে পরিস্থিতি হতে পারে, সেই প্রেক্ষাপটে আইএমএফের প্রক্ষেপণ দেখতে হবে। তার দাবি, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রক্ষেপণে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথাও রয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষকে কেন মূল্য দিতে হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। তার দাবি, আস্থা ফেরায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের চাপ নেই; বরং অনেকে নতুন করে আমানত রাখছেন। অন্য যেসব ব্যাংকে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে রেজল্যুশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্য

রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য কমানোকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিতুমীর। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এর লক্ষ্য।

দারিদ্র্য কমাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় ফার্মার্স কার্ডের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন, তাদের সেখান থেকে বের করে আনা এবং নতুন করে মানুষের দরিদ্র হয়ে পড়া ঠেকাতে চায় সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, এসব সংকট বাংলাদেশের তৈরি নয়। তবে এর প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষক ও পরিবহন খাতের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আর কোনো মানুষ যেন দারিদ্র্যসীমার নিচে না চলে যায়।




আইএমএফ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা জরুরি

আইএমএফ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা জরুরি
ছবি সংগৃহীত।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। এজন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।


থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।

সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও জরুরি। বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি এই তিন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।


দুর্বল আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এজন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং খাতটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছে আইএমএফ।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ
বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি।


আইএমএফের মতে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএমএফ।


নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত
এদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আইএমএফের সহায়তায় নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আইএমএফের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে উল্লেখ করা সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জুলাইয়ের ওই সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আইএমএফ আগ্রহী।