আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই। নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কারো ভোট ব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন।


তিনি বলেন, যে সময়ে নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা, সরকারি বরাদ্দ ও ছুটির সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকবে, সেই সময়েই সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতি সমর্থন বেশি থাকবে বলে আশা করা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা বিচার করার দায়িত্ব তাদের ওপর ছেড়ে দেন।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সিটিজেন হিসেবে, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন আপনারা কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে আপনাদের সব গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে?।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রীতি বলা উচিত। কারণ, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হতে আসিনি। আমাদের দেশের আইন-কানুন কেউ কাউকে সম্প্রদায় বলে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, সবাই সিটিজেন, সবাই সমান অধিকারের অধিকারী।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীকে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ ও সর্বোচ্চ ছুটি রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্নে উদযাপনে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাস, আচার ও অনুষ্ঠান তাদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং বনানী ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার : প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার : প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাই।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করছে, করবে, এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।

তিনি আরও বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সুতরাং যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন। আপনাদেরকে আবারও শুভেচ্ছা।




মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন আদেশ জারি

মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন আদেশ জারি
ছবি সংগৃহীত।

মোটরসাইকেলের পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ জন্য প্রাথমিকভাবে মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ ও নকশা অনুসরণ করে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন করতে হবে।

মালিকদের নিজের উদ্যোগেই এ নম্বরপ্লেট বসাতে হবে। এর শেষ সময় আগামী ১৫ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয় বিআরটিএ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এখন থেকে পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।

সামনের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেটের আকার মোটরসাইকেলের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। স্কুটারের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।

স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। এসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় লেখা যাবে। যেমন— ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২২৯।

নম্বরপ্লেট তৈরির উপকরণ ও নকশার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে বিআরটিএ। প্লেটটি স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং অক্ষর ও সংখ্যা হবে কালো রঙের। নম্বরপ্লেটে কোনো ধরনের শোভামূলক উপাদান, অতিরিক্ত নকশা বা ডিজাইন রাখা যাবে না।




সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
ছবি সংগৃহীত।

 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি।



বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে তিনি চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভার্চু্যয়ালি এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে।



এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ বোধ করায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, ‘উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চু্যয়ালি এ সভা হবে।

আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না, নিশ্চিত নই’।
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘উনি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন’।

এ বিষয়ে জানতে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপাচার্যের বক্তব্য জানা যায়নি।