লামায় ভারী ট্রাক চলাচলে জনদুর্ভোগ,স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রাস্তা ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে

বান্দরবানের লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চাম্পাতলী গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের ব্লক নির্মাণ ও পরিবহনের কাজে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এলাকার একমাত্র সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।২২ফ্রেরুয়ারী সোমবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর একটি প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মালিকানাধীন একটি মাঠে কংক্রিট ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। মাঠটি সবজি চাষের জন্য ইজারা দেওয়া হলেও ইজারাদার সেটি ঠিকাদারের কাছে ভাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ব্লক তৈরির কাঁচামাল ও প্রস্তুত ব্লক পরিবহনে ১০ চাকার ট্রাকে পাথর ও বালি আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, লামা পৌরসভা নির্মিত সড়কটি সর্বোচ্চ ৫ টন ধারণক্ষমতার উপযোগী হলেও প্রায় ৪০ টন ওজনের ট্রাক চলাচল করছে। ফলে মাতামুহুরী ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বের মোড় থেকে চাম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং দুই পাশ দেবে গেছে। ছোট যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
অতিরিক্ত ধুলাবালি ও যান্ত্রিক শব্দে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরিবারকে দিনের বেলায়ও ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে বৈঠকে ভারী ট্রাক চলাচল বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং এখনো ভারী ট্রাক চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামত ও কার্পেটিংয়ের জন্য টেন্ডার ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চলমান ভারী যান চলাচলের কারণে কাজ শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ভারী যান চলাচল বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন,আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি অভিযোগ টি জেলা প্রশাসন বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি স্যার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।











