লামায় জাতীয় মৎস্যপক্ষ উদ্যাপন
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

লামায় জাতীয় মৎস্যপক্ষ উদ্যাপন

লামায় জাতীয় মৎস্যপক্ষ উদ্যাপন
ছবি সংগৃহীত।

“রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের লামায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) লামা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র আমির হোসেন আমু, সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবদুর রব, জামায়াতে ইসলামী লামা শাখার আমির কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভোজ বড়ুয়া, এনসিপি সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ফখরুজ্জামান।

আলোচনা সভায় বক্তারা লামা উপজেলার মৎস্যসম্পদের যথাযথ ব্যবহার, স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমিষের চাহিদা মেটাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মৎস্যচাষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মৎস্যচাষিদের সার্বিক সহায়তা প্রদান ও নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের তৎপরতার কথা জানানো হয়।

আলোচনা সভা শেষে লামা উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মৎস্যচাষি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু

নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬ শুরু হয়েছে। ‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (১৬ আগস্ট) উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর হাসান মজুমদারের সভাপতিত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি মডেল মসজিদের সভাকক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ এনামুল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, আধুনিক ও টেকসই চাষপদ্ধতির প্রসার এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষের প্রদর্শনী ও সফল চাষিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদের পুকুর ও নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন স্পটের লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, ওসির প্রতিনিধি এসআই ইমতিয়াজসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষি, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা।




লামায় পাড়াকেন্দ্র আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

লামায় পাড়াকেন্দ্র আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড পুইট্যাঝিরিপাড়ায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও শিশুদের একটি পাড়াকেন্দ্র আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবিচারের আশায় এবং জানমালের নিরাপত্তায় কায়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কালাম।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার সময় অভিযুক্ত আবুল হোসেন (প্রকাশ আবুল) স্থানীয় এক বসতবাড়িতে ঢুকে বাতি ও আসবাব ভাঙচুর করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে ঘরে অবস্থানরত নারীদের বের করে দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়।

পরবর্তীকালে একই রাতে আনুমানিক ৩টার সময় স্থানীয় শিশুশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত "পাড়াকেন্দ্র" স্কুলটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে স্কুলটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে সালিসি বৈঠক হলেও তিনি তা অমান্য করে আসছেন এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। বর্তমানে ওই এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কায়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দীপেন জানান, "আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি; তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ পাইনি। এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত দল কাজ করছে।"




রাঙামাটিতে যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে ৪ জন নিহত

রাঙামাটিতে যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে ৪ জন নিহত
ছবি সংগৃহীত।

রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মানিকছড়ি এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে পিকআপে থাকা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতরা হলেন, নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি এলাকার শোভা চাকমা (৫২), কৃষ্ণমাছড়া এলাকার মেঘরানী চাকমা (৪৫), রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ এলাকার শান্তনা চাকমা (৩৮) ও বিজয়নগর এলাকার শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।

‎‎আহত দুজন হলেন পিকআপচালক নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি এলাকার জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং রাঙামাটি শহরের পিটিআই এলাকার সুমন চাকমা (৪৫)। তারা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

‎গুরুতর আহত শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ায় শোভা চাকমার মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়।

‎রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ফয়সল বলেন, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি তিনজনের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে রেফার করা হয় এবং অন্য দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

‎এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও মর্গ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিহত ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

‎রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

‎প্রাথমিকভাবে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।