রামুর ঈদগড় বড় খালে সেতু নেই, দুর্ভোগ চরমে
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

রামুর ঈদগড় বড় খালে সেতু নেই, দুর্ভোগ চরমে

রামুর ঈদগড় বড় খালে সেতু নেই, দুর্ভোগ চরমে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝীরি এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথে ঈদগড় বরইচর এলাকার ঈদগড় বড় খালে সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গাঝীরি ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য এ পথটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বড় খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় বর্ষাকালে খাল পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক সময় পানি দিয়ে হেঁটে খাল পার হতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

‎ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হাঁটু সমান পানির মধ্য দিয়ে খাল পার হচ্ছেন। এমনকি গবাদিপশুও একইভাবে খাল পারাপার করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন  জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝীরি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তারা আশা করছেন।
 




চকরিয়ায় মধ্যরাতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি ডাম্পার আটক, স্যালু মেশিন ধ্বংস ও জব্দ

চকরিয়ায় মধ্যরাতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি ডাম্পার আটক, স্যালু মেশিন ধ্বংস ও জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের মুখে কৌশল পরিবর্তন করে মধ্যরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত অবৈধভাবে স্যালু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন ব্যবসায়ীরা এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম।

অভিযানে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফোরকানের বালুমহল থেকে একটি বালুভর্তি ডাম্পার আটক করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীরা পালিয়ে যান।

পরে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিকে যাওয়ার পথে কুমারীছড়া এলাকা থেকে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করা দুটি বালুভর্তি ডাম্পার আটক করেন অভিযান পরিচালনাকারী ভূমি অফিস, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

এরপর সাহারবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপাড়া এলাকায় নদীতে অবৈধভাবে বসানো একটি স্যালু মেশিন ধ্বংস করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে ফেরার পথে চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নদীতে বসানো একটি স্যালু মেশিন জব্দ করা হয়। একই এলাকায় আরও একটি স্যালু মেশিন ধ্বংস করে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল মনছুর, পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্য, আনসার সদস্য এবং ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 




রামুতে যুবলীগ নেতা মোনাফসহ গ্রেফতার ২

রামুতে যুবলীগ নেতা মোনাফসহ গ্রেফতার ২
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যুবলীগের কক্সবাজার জেলা সংগঠক মুনাফ সিকদার ও রানা সিকদার।

‎বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার কিছু পর রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চাবাগান-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যুবলীগের ওই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎কক্সবাজার জেলাপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে জোয়ারিয়ানালা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় মুনাফ সিকদার ও রানা সিকদারকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

‎পুলিশ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি আয়োজন বা এতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎গ্রেপ্তার মুনাফ সিকদার কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া রানা সিকদারও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

‎তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে  কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 




দলিল পুড়িয়ে সমালোচনার মুখে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার

দলিল পুড়িয়ে সমালোচনার মুখে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাবিদারবিহীন প্রায় ৩২শ’ দলিল পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলিল সংরক্ষণের নানা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলা হলো এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার তীব্র সমালোচনা চলছে ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের উপস্থিতিতে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দাবিদারবিহীন এসব দলিল পোড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দলিলের কোনো দাবিদার ছিল না। তবে দলিল পোড়ানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজন দলিলগ্রহীতা তাঁর দলিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বুধবার বিকেল ৫টায় চকরিয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোহাম্মদ আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে ১৩৭৫ নম্বর দলিলটি করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও তিনি দলিলটি পাননি। তাঁর দাবি, দলিল পুড়িয়ে ফেলা হবে, এমন কোনো তথ্য বা নোটিশও তাকে জানানো হয়নি।

মোহাম্মদ আলম বলেন, ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও দলিলটি দেওয়া হয়নি। তারা দলিল পুড়িয়ে দেবে এ কথাও কোনো মাধ্যমে জানায়নি। আজ জানতে পারলাম দলিলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দলিল পোড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস না করে সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেত কি না।

দলিল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে ।

সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, দলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করা এবং নথিগুলোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি ছিল। একই সঙ্গে সংরক্ষণাগার, ডিজিটাল সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব নথি সংরক্ষণের সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুড়ানোর পূর্বে মাইকিং, নোটিশ ও গণমাধ্যমে প্রচার করেছি যাতে দলিলের মালিকরা নিয়ে যেতে পারে।

দলিলগুলো কী প্রক্রিয়ায় ‘দাবিদারবিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ৩২শ’ দলিল পোড়ানোর আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।