লামা প্রেসক্লাব’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি কামরুজ্জামান ও সম্পাদক আরমান
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

লামা প্রেসক্লাব’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি কামরুজ্জামান ও সম্পাদক আরমান

লামা প্রেসক্লাব’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি কামরুজ্জামান ও সম্পাদক আরমান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা প্রেসক্লাব’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সদস্যদের গোপন ব্যালটের ভোটে সভাপতি পদে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ’র লামা প্রতিনিধি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক পূর্বদেশ ও ইংরেজী দৈনিক ডেইলি পোষ্ট পত্রিকার লামা প্রতিনিধি মো. নুরুল করিম আরমান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে দৈনিক কালের কন্ঠ’র লামা প্রতিনিধি মো. তানফিজুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জিটিভি ও দৈনিক চট্টগ্রাম মঞ্চ প্রতিনিধি মো. ফরিদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৈনিক খবর পত্রিকার লামা প্রতিনিধি মুহাম্মদ নবীর উদ্দিন, অর্থ-সম্পাদক পদে ডেইলি সান পত্রিকার লামা প্রতিনিধি সাহাব উদ্দিন রিটু নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন, সাহাব উদ্দিন রিটু, মুহাম্মদ নবীর উদ্দিন, মংছিংপ্রং মার্মা ।

নব-নির্বাচিত কমিটি আগামী তিন বছর সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ নবীর উদ্দিন। 

নির্বাচনে প্রেসক্লাবের জমিদাতা মো. ইউছুপ আলী, রিপোাটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বেলাল আহমদ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমসহ গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




লামায় পুকুরে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

লামায় পুকুরে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে নাহিদ নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাহিদ ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন ও নুরু বানু দম্পতির ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসার পুকুরে গোসল করতে নামে শিশু নাহিদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পানিতে তলিয়ে যায় সে। পরে স্থানীয়রা পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে নাহিদকে উদ্ধার করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া




নাইক্ষ্যংছড়িতে কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল তিতারপাড়া এলাকায় কেয়াং মন্দিরের সামনে থেকে জাফর আলম বাবুল (নাম) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নিহত জাফর আলম বাবুল লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কাঠের ব্যবসা করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাবুল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কেয়াং মন্দিরের সামনে তার মরদেহ পড়ে রয়েছে।

খবর পেয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল সুরক্ষিত করে মরদেহ উদ্ধার করে।।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোকসিং মার্মা (৩০) নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া মন্দিরের অভ্যন্তরে অংকিয় চিং মার্মা নামে আরও একজন অবস্থান করছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বাইশারী এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিরোধ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও তাদের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময় এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যার পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ, ব্যবসায়িক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পাওয়া গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




লামায় দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী ও প্রকল্পের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

লামায় দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী ও প্রকল্পের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও প্রকল্পের টাকা নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য কিছু স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা ও কলম দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এই ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আরো কিছু প্রকল্প গত ৩০শে জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প গুলো এখনো বাস্তবায়ন না করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

জানা যায়,লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন মতে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২য় কিস্তির বরাদ্দের অনুকূলে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মোট সাতটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ‘ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণীর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণে’ ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তবে প্রকল্পের তালিকার সাথে কোন মিল নেই।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,২য় কিস্তির অধীনে অবকাঠামো ও সেচ খাতে ১৭,৫২,৯০০/- (সতেরো লাখ বাহান্ন হাজার নয়শত) টাকা অনুমোদন করা হয়েছে, সেখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে,​হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড হতে মংবাচিং এর বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণ বরাদ্দ: ২,৫০,০০০/-, ​রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্ব পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ বরাদ্দ: ৩,০০,০০০/-, পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাষ্টারের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবি করণ বরাদ্দ: ৩,০০,০০০/-, ​ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ বরাদ্দ: ৩,০০,০০০/-, ​হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদের যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণ বরাদ্দ: ২,৫০,০০০/-, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণ বরাদ্দ: ৩,৫২,৯০০/-। 

​অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন ও সরকারি নির্দেশিকা উপেক্ষা করে অর্থ ভাগবাটোয়ারা করার চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকদেখানো সামান্য কাজ করে পুরো টাকা আত্নসাতের পায়তারা করা হচ্ছে।
​এ বিষয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা ও সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জনান আমরা প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানিনা সাংবাদিকদের লিখনির মাধ্যমে জানতে পারলাম অন্যথায় প্রকল্পের টাকা লোপাট হয়ে যেত।তিনি আরো জানান,ইউপি সচিব আমাকে পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রকল্পের তিন লক্ষ টাকার কাজ দুই লক্ষ দশ হাজার টাকায় দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেন।তাহলে এখন প্রশ্ন হলো বাকী ৯০ হাজার টাকা কার পকেটে!

ইউপি সচিব মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার বলেন,দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী এখনো বিতরণ করা হয়নি,বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখনো তালিকার কাজ শেষ করতে পারিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন,বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে আমরা সভা করেছি। শীঘ্রই বিতরণ করা হবে এবং প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।