রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা

রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মাসিক সভা করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রামগড় জোন সদরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি।

সভায় রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রামগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, হেডম্যান, কারবারি, কাঠ ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়মতো অবহিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জোন কমান্ডার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের গুজব প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম এবং সীমান্তসংলগ্ন রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর সতর্কাবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে। ফলে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ির ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-গাঁয়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দোছড়ি, ঘুমধুম ও সদরসহ আশপাশ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি কিছু ডেঙ্গু রোগীও শনাক্ত হয়েছে, তবে সে সংখ্যা তুলনামূলক কম।

সূত্র জানায়, বাইশারী, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ির অধিকাংশ রোগী ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কক্সবাজার কেন্দ্রিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়ার একাংশের রোগীরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫০ জন হাম আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১৯ অক্টোবর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৪ জনকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল মনজুর জানান, এলাকায় হাম ও ডেঙ্গুর উপদ্রব থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও দুটি বিষয়ের ওপরই বিশেষ নজরদারি ও সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভৌগোলিক সীমানা সংলগ্ন রামু উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ জেড এম সলিম জানান, এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে রামু উপজেলায় প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত, জনমনে আতঙ্ক

বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত, জনমনে আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সদর উপজেলার রংছড়ি স্টেশন ও লেবুঝিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাই বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কামাল হোসেন (৩০) নামে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। একের পর এক কুকুরের কামড়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহত কামাল হোসেন জানান, তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কুকুর এসে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। এতে তাঁর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কামালের পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা বাড়িতে থাকা অবস্থায় খবর পান, কামালকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “জরুরি বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে আহত ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরও কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসতে পারেন বলে আমরা খবর পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলাতঙ্কের টিকা মজুত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে টিকার সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

এদিকে, কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় বান্দরবান সদরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব ও লিও ক্লাবের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় রোয়াংছড়ি হাইস্কুল মাঠে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের তত্ত্বাবধানে রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যাম্প এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এতে সহযোগিতা করে লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও লিও ক্লাব অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন।

ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি।

এ কর্মসূচির আওতায় রোয়াংছড়ি ও আশপাশের এলাকার চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা নিতে না পারা ব্যক্তিদের সহায়তা করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।