মাদকের তকমা লাগিয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানির উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য মো. ওমর উদ্দিন ও মোহাম্মদ করিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয়দের ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ওমর উদ্দিন, জিয়াউল করিম, হাবিবুর রহমান, রেজাউল হক তানজীম, ফরহাদুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ রেজা প্রকাশ মেম্বার বলেন, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে এলাকায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এলাকার মানিক, ওসমান ও মারুফ আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন, যেন মো. ওমর উদ্দিন ও মোহাম্মদ করিমের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমি বাধ্য হয়ে বলি যে তাঁরা মাদকের সঙ্গে জড়িত। আসলে এসব কাজে তাঁরা দু'জন কখনো জড়িত ছিলেন না। আমার দেওয়া ওই বক্তব্যটি মিথ্যা।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি মাদকবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং মাদকবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলনকে পণ্ড করার উদ্দেশ্যে সভাটি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সচেতন এলাকাবাসীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য। একটি পক্ষ আমাদের এই শুভ উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষে মাদকবিরোধী সমাবেশ নিয়ে সত্য বিকৃত করে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়াও এলাকাকে পূর্ণাঙ্গ মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো মূল্যে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।










