লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হয় পথচারীদের। বর্তমানে অনেক স্থানে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দরবেশহাট ডিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হাসনাপাড়া ব্রিজ থেকে উত্তর পহরচাঁদা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এ সড়কটি পুটিবিলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। নোয়াপাড়া, পহরচাঁদা, হানিফার পাড়া, নতুনপাড়া, আশ্রয়ণ পাড়া, খনির পাড়া, পূর্বপাড়া ও বড়ুয়া পাড়ার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩৫ বছর ধরে সড়কটি ব্যবহৃত হলেও এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার বা পাকাকরণ করা হয়নি। ২০২২ সালে সড়কটি এলজিইডির আইডিভুক্ত হলেও দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত। কোথাও কাদা, কোথাও ভাঙা সড়কের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে মাটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। সড়কের এমন অবস্থায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে চলতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়কের আশপাশে রয়েছে হাসনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, গৌড়স্থান আখতারিয়া পাড়া দাখিল মাদ্রাসা, পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পহরচাঁদা এবতেদায়ী মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্ষায় কাদার কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়।
সড়কটির দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে তাদের বাড়তি সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন যেতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বহন করতে হচ্ছে।
নোয়াপাড়ার বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আবু ছালেক ও মোস্তফিজুর রহমানসহ স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির একই অবস্থা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু পরে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পহরচাঁদা পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।