মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে: সাচিং প্রু জেরী
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে: সাচিং প্রু জেরী

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে: সাচিং প্রু জেরী
ছবি সংগৃহীত।

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে ভৌগোলিক পার্থক্য থাকলেও সামাজিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার দায়িত্বও আমাকে দিয়েছেন। সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত এবং জেলার মানুষের সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো চেষ্টা করব।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার (জেইউসি)-এর যৌথ সভায় মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে এবং পর্যটনকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাদক প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরী বলেন, মাদক এখন গোটা জাতিকে ধ্বংস করছে। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ইতোমধ্যে পাড়া-মহল্লায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের সব সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করে জেলার দায়িত্ব পালনে কাজ করবেন। মাদক প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরার আহ্বান জানান।

মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার সবগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে মাদক, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কক্সবাজারের ভূমিপুত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিকল্পিত কক্সবাজার উন্নয়ন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, জেলার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে আসছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার (জেইউসি)-এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনি কক্সবাজারেরও মন্ত্রী, আপনি আমাদের আপনজন। কক্সবাজারের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে আপনি অভিভাবক হিসেবে জেলার সমস্যাগুলো দেখবেন এবং বিবেচনা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সাংবাদিক এম আর মাহবুব-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা শামসুল হক শারেক, অ্যাডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানী, ইকরাম চৌধুরী টিপু, এস. এম. জাফর ও সৈয়দ আলম।

এ সময় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ, মন্ত্রীর প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানান। তারা বলেন, ২০১৩ সালে প্রণীত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংক্রান্ত আইন ও বিধিনিষেধের কারণে কক্সবাজারের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পর্যটন বিকাশে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা আইন ও বিধিনিষেধের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

সভায় কক্সবাজারের মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।




কক্সবাজার বায়তুশ শরফে ইছালে সওয়াব মাহফিলে শায়খ আবদুল হাই নদভী: মানবতার মুক্তির দিশা প্রদানে গাউছে পাক (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই

কক্সবাজার বায়তুশ শরফে ইছালে সওয়াব মাহফিলে শায়খ আবদুল হাই নদভী: মানবতার মুক্তির দিশা প্রদানে গাউছে পাক (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই
ছবি সংগৃহীত।

মানবতার মুক্তির দিশা প্রদানে গাউছে পাক হযরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুশ শরফের রাহবার আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী।

তিনি বলেন, হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ পূর্ণরূপে অনুসরণ করতেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা মানবতার কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

২৫ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উপলক্ষে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স আয়োজিত পবিত্র ইছালে সওয়াব মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বায়তুশ শরফের পীর সাহেব এসব কথা বলেন।

আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বলেন, বায়তুশ শরফের দরবার কাদেরিয়া তরিকার ভিত্তিতে পরিচালিত। এর সঙ্গে নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া ও মুহাম্মদিয়া তরিকার শিক্ষাও যুক্ত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আল্লামা সাইয়্যেদ সালমান হুসাইন নদভী (রহ.) তাঁকে বিভিন্ন তরিকার সবক, খেলাফত এবং হাদিসের সনদ প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি বলেন, গাউছে পাক হযরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। এ কারণে প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উপলক্ষে ইছালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

গাউছে পাকের জন্ম ও শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাউছে পাক ১ রমজান পৃথিবীর বুকে তাশরিফ আনেন। শৈশব থেকেই তাঁর জীবনে অসাধারণ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে। মক্তবে উপস্থিত হলে তাঁর জন্য কুদরতিভাবে বসার স্থান তৈরি হয়ে যেত বলে বর্ণনা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি পবিত্র কুরআনের ১৮ পারা মুখস্থ করেন এবং বাগদাদে গিয়ে দ্বীনি শিক্ষা, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।

তিনি আরও বলেন, গাউছে পাকের শিক্ষা ছিল মানুষের কল্যাণ ও সেবার শিক্ষা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানবসেবা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণ সাধন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন পীর-মুর্শিদ হাসপাতাল, একাডেমি, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাহবারে বায়তুশ শরফ শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা.জি.আ.) বলেন, বর্তমান সমাজে আমাদের যুবকরা ইসলামী জ্ঞান অর্জন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। তাই তাদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

আমরা যদি সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে চাই, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে যুবসমাজকে ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। এজন্য যুবকদের কোরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর লেখা অনেক ইসলামী বই রয়েছে, যেগুলো যুবকদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

তিনি সমাজের আলেম-ওলামা ও অভিভাবকদের প্রতি যুবসমাজকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বায়তুশ শরফের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রসঙ্গে রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, সারা দেশে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফসহ সাত শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। মাহফিলে পবিত্র দরুদ শরিফের তাৎপর্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

দুই দিনব্যাপী মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক ও শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম।

বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজার বায়তুশ শরফ মসজিদের সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুকের যৌথ সঞ্চালনায় মাহফিলে চলতি বছর হিফয সম্পন্নকারী ১৭ জন কুরআনের পাখিকে পাগড়ি (দস্তারবন্দী) প্রদান করা হয়।

মাহফিলে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নেজামী, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক আল-আজহারী, অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ, ড. মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ মঈন, মাওলানা রিদওয়ানুল হক, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান, মাওলানা লোকমান হাকীম সাহেদী, মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ হোসাইনী, মাওলানা জিয়াউল হক আনসারী, মাওলানা মুহাম্মদ আবু ওসমান, মাওলানা এস এম ফোরকান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান শামসী, মাওলানা আবু আইয়ূব আনসারী, হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা লোকমান, মাওলানা জিয়াউল করিম প্রমুখ।

ইছালে সওয়াব মাহফিলে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, অসংখ্যবার দরুদ শরিফ পাঠ ও খতমে বুখারি শরিফসহ বিভিন্ন আমলের পর বাদ মাগরিব জিকির মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকিরের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী দিনে তওবা-ইস্তিগফার, বাইআত ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।




রামুতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধ’র্ষণ, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

রামুতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধ’র্ষণ, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি সংগৃহীত।

রামুর গর্জনিয়া মাঝিরকাটায় শিক্ষকের হাতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধ’র্ষণে’র ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নুরুল আমিনকে একমাত্র আসামি করে ২৪ সেপ্টেম্বর রামু থানায় মামলা করেছেন ভিকটিমের মা।

আসামি নুরুল আমিন বাঁকখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ভিকটিম শিশু মাঝিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাদী ও আসামি একই এলাকার বাসিন্দা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘটনাটি সংঘটিত হয়। তবে, ভিকটিম পরিবার অসহায় হওয়ায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে অভিযুক্ত নুরুল আমিনসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রামু থানার ওসি একে ফজলুল হক।

তিনি বলেন, ভিকটিম শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




ঈদগড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন এসআই খোরশেদ

ঈদগড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন এসআই খোরশেদ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খোরশেদ আলম দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদগড় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এসআই খোরশেদ আলম।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোনো ঘটনা বা সমস্যার বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

স্থানীয়রা আরও বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বাড়ানো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার মানুষ আরও নিরাপদ পরিবেশ পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এসআই খোরশেদ আলম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে ঈদগড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঈদগড়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ-জনগণের সমন্বিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ঈদগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আহমদ হোসেন বিপ্লব, সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আজিম রিপন, কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল হক, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন জোসেপ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এসআই খোরশেদ আলম ঈদগড়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি মাদক নির্মূলে এলাকার সর্বস্তরে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

তাছাড়া তিনি একজন সৎ, সাহসী ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিচক্ষণতায় এলাকার অনেক দাগি আসামি পুলিশের জালে আটকা পড়ছেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এসআই খোরশেদ আলম ঈদগড়-টুঠারবিল এলাকার গহিন বনে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও অস্ত্র উদ্ধার করেন।