হুথিদের হামলা, বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের তিন সেনাপ্রধান
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

হুথিদের হামলা, বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের তিন সেনাপ্রধান

হুথিদের হামলা, বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের তিন সেনাপ্রধান
ছবি সংগৃহীত।

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সুরক্ষায় জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার রিয়াদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই হামলার মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির ইতি টেনে সৌদির বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ এবং বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে সৌদি তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ স্থবির করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় এই বিদ্রোহীরা।

শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির সেনাপ্রধান শুক্রবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। তবে বৈঠকটি ঠিক একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ত্রিপাক্ষিক এক বৈঠক করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকের পরপরই তিন দেশের সেনাপ্রধানদের যৌথ বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সৌদির সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।

গত মাসে দেশ তিনটি এক ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা অন্য দেশগুলো তাদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে যৌথভাবে রক্ষায় এগিয়ে আসবে।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ধাঁচের এমন শক্তিশালী সামরিক প্রতিশ্রুতি ও ধারা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে নামেনি।

এসপিএ বলেছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় চালানো হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। যদিও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার এক জোরালো বার্তায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান দেশটির সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থেকে নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

সূত্র: এএফপি।




যুদ্ধবিরতির আশায় কমলো তেলের দাম

যুদ্ধবিরতির আশায় কমলো তেলের দাম
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১ দশমিক ৪৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ১১ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ শতাংশ বা ২ ডলার কমে ৯২ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ায়।
সপ্তাহজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামার পর শুক্রবারের এই দরপতন হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকেরা সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি ধাপে ধাপে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।


এই পরিকল্পনার আওতায় তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে।
 




পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক

পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত।

ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই সতর্কতা জারি করেছে। সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেই কেবল দেশটির জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও আলাদা সতর্কতা জারি করা হয়।

তবে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা তুলে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হামলা চালানোর ঠিক আগমুহূর্তে সাধারণত এই সতর্কসংকেত সচল হয়ে ওঠে।

গত সপ্তাহে রিয়াদ অভিযোগ করে বলেছিল, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছে হুথিরা। তবে হুথিদের ছোড়া ড্রোন গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করা হয়। যদিও মক্কা নগরীতে হামলার চালানোর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে হুথি।
এর কয়েক দিনের মাথায় ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদির রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের হামলা চালায়; যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের হয়ে দেশটিতে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সম্প্রতি হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের আবর্তে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে ইয়েমেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেয় হুথিরা। এর মাধ্যমে সৌদির তেল রপ্তানির প্রধান পথ বাব আল-মানদেব প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

এর আগে, গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় রিয়াদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলেও তা অমান্য করে সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। এর পরপরই ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায় এবং শুরু হয় একের পর এক হামলা।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সৌদির তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালাতে শুরু করে  হুথি বিদ্রোহীরা।

হুথিদের এসব ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ববাজারের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদিসহ পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর ইরান ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছে।

সূত্র: এএফপি।
 




পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে ১১ জন বেসামরিক সাধারণ মানুষ। আর বাকি পাঁচজন পুলিশ সদস্য।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পেশোয়ার পুলিশ।

মসজিদটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলায় অবস্থিত।

হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে মসজিদে ধাক্কা দেয়। এরপর ওই গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়ে এত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এখনো গোলাগুলি চলছে। এরমধ্যে এক হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কার রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কোহাত জেলার পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদের গেটে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয় হামলাকারীরা। ওই সময় সাধারণ মানুষ জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদটিতে জড়ো হয়েছিলেন। ১৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি এ হামলায় আরও অন্তত ৫০জন আহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলের মসজিদে হামলার পর হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ এবং আহত অবস্থায় আর প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির শাহ বলেছেন, আহত অবস্থায় যাদের নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। এতে করে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সেখানে তেহরিক-ই-তালেবানের উপস্থিতি রয়েছে। যারা প্রায়ই পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। অতীতে তারা মসজিদেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সূত্র: বিবিবি, আলজাজিরা