মানবতার মুক্তির দিশা প্রদানে গাউছে পাক হযরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুশ শরফের রাহবার আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী।
তিনি বলেন, হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ পূর্ণরূপে অনুসরণ করতেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা মানবতার কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
২৫ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উপলক্ষে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স আয়োজিত পবিত্র ইছালে সওয়াব মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বায়তুশ শরফের পীর সাহেব এসব কথা বলেন।
আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বলেন, বায়তুশ শরফের দরবার কাদেরিয়া তরিকার ভিত্তিতে পরিচালিত। এর সঙ্গে নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া ও মুহাম্মদিয়া তরিকার শিক্ষাও যুক্ত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আল্লামা সাইয়্যেদ সালমান হুসাইন নদভী (রহ.) তাঁকে বিভিন্ন তরিকার সবক, খেলাফত এবং হাদিসের সনদ প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি বলেন, গাউছে পাক হযরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। এ কারণে প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উপলক্ষে ইছালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
গাউছে পাকের জন্ম ও শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাউছে পাক ১ রমজান পৃথিবীর বুকে তাশরিফ আনেন। শৈশব থেকেই তাঁর জীবনে অসাধারণ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে। মক্তবে উপস্থিত হলে তাঁর জন্য কুদরতিভাবে বসার স্থান তৈরি হয়ে যেত বলে বর্ণনা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি পবিত্র কুরআনের ১৮ পারা মুখস্থ করেন এবং বাগদাদে গিয়ে দ্বীনি শিক্ষা, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
তিনি আরও বলেন, গাউছে পাকের শিক্ষা ছিল মানুষের কল্যাণ ও সেবার শিক্ষা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানবসেবা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণ সাধন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন পীর-মুর্শিদ হাসপাতাল, একাডেমি, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাহবারে বায়তুশ শরফ শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (মা.জি.আ.) বলেন, বর্তমান সমাজে আমাদের যুবকরা ইসলামী জ্ঞান অর্জন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। তাই তাদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
আমরা যদি সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে চাই, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে যুবসমাজকে ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। এজন্য যুবকদের কোরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর লেখা অনেক ইসলামী বই রয়েছে, যেগুলো যুবকদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
তিনি সমাজের আলেম-ওলামা ও অভিভাবকদের প্রতি যুবসমাজকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বায়তুশ শরফের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রসঙ্গে রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, সারা দেশে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফসহ সাত শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। মাহফিলে পবিত্র দরুদ শরিফের তাৎপর্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
দুই দিনব্যাপী মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক ও শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম।
বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজার বায়তুশ শরফ মসজিদের সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুকের যৌথ সঞ্চালনায় মাহফিলে চলতি বছর হিফয সম্পন্নকারী ১৭ জন কুরআনের পাখিকে পাগড়ি (দস্তারবন্দী) প্রদান করা হয়।
মাহফিলে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নেজামী, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক আল-আজহারী, অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ, ড. মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ মঈন, মাওলানা রিদওয়ানুল হক, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান, মাওলানা লোকমান হাকীম সাহেদী, মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ হোসাইনী, মাওলানা জিয়াউল হক আনসারী, মাওলানা মুহাম্মদ আবু ওসমান, মাওলানা এস এম ফোরকান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান শামসী, মাওলানা আবু আইয়ূব আনসারী, হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা লোকমান, মাওলানা জিয়াউল করিম প্রমুখ।
ইছালে সওয়াব মাহফিলে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, অসংখ্যবার দরুদ শরিফ পাঠ ও খতমে বুখারি শরিফসহ বিভিন্ন আমলের পর বাদ মাগরিব জিকির মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকিরের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী দিনে তওবা-ইস্তিগফার, বাইআত ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।