বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির

বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাতের শুরুতেই তিনি সালাম দিয়ে বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেফাজত আমির। একপর্যায়ে তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ হয়। পরে সেখানে দেশের আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময়সভায় নির্বাচনের সময় আলেমদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে দেশ গঠনে তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।

বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে যান। দুজন পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। এ সময় বাবুনগরী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত আলেম ও নেতাদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মোড় সিঅ্যান্ডবি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাসে করে বাবুনগর মাদ্রাসায় যান তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় হেফাজতে ইসলামের আমিরসহ আলেমরা যেভাবে পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। দেশ গঠনের কাজেও তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর সরকারের বিভিন্ন কাজ, রমজান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কার কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ততার কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একজন মুসলমান হিসেবে অঙ্গীকার রক্ষা করা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কথা রাখতে না পারলে কাজের কোনো মূল্য থাকে না।

তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ ফ্যাসিবাদের সময় মানুষের ওপর অত্যাচার, দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্নভাবে এসেছে।

মতবিনিময়সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফটিকছড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁকে একনজর দেখতে উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা আছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফটিকছড়িতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
 




ধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের প্রত্যাশা: শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা

ধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের প্রত্যাশা: শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা
ছবি সংগৃহীত।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সাক্ষাৎকে দেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বির সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন তারা।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “হেফাজতে ইসলামের আমির ও আমাদের শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া নিতে আসছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের একজন প্রধান দেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বির সান্নিধ্যে আসছেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাব।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশের মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। সামাজিক হানাহানি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে যেন দেশ মুক্ত থাকে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।”

দেশে ইসলামবিদ্বেষী কোনো শক্তি যাতে মানুষের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন হেফাজতের এই মুখপাত্র।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও বলেন, “আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব ও দাবি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।” তবে এই সাক্ষাৎকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হুজুরের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও দোয়ার অনুষ্ঠান।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আলেমদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




জোট নয়, ইসলামের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা: ইসলামাবাদী

জোট নয়, ইসলামের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা: ইসলামাবাদী
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাক্ষাৎকে স্বাগত জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। এ সাক্ষাতে ইসলামের স্বার্থে কোনো আইন না করা এবং চট্টগ্রামে আরও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শেখ হুসাইন মুহাম্মদ ইসলামাবাদী।

রবিবার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হুসাইন মুহাম্মদ ইসলামাবাদী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, এতে আমরা খুবই খুশি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মেহমান হিসেবে আসছেন; তাই আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি থাকবে না। তবে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে দুটি বিষয় তুলে ধরব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আইন যেন সংসদে পাস না হয়, এটি আমাদের প্রথম দাবি। ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ ও কোরআন-হাদিসের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়ে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফটিকছড়িতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আদলে বা এর আওতায় আরও একটি বড় ও আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাব। চট্টগ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের জন্য এটি প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হেফাজতের অন্য নেতাদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তবে কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি বা সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোনো জোটের আলোচনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামাবাদী বলেন, ‘এটি কোনো জোটের আলোচনা নয়। মাদ্রাসা ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের যে সম্পর্ক রয়েছে, সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে আলোচনা হবে। ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ও ইসলামের স্বার্থে আমরা সব সময় সরকারের সহযোগিতা করতে চাই। তবে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হলে আমরা তার প্রতিবাদ করব এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরের এ সাক্ষাৎ দেশের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।