লামায় ৪০ ইটভাটায় পাহাড় কাটার হিড়িক, নেপথ্যে মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেট
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

লামায় ৪০ ইটভাটায় পাহাড় কাটার হিড়িক, নেপথ্যে মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেট

লামায় ৪০ ইটভাটায় পাহাড় কাটার হিড়িক, নেপথ্যে মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেট
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আসন্ন ইটভাটার মৌসুমকে সামনে রেখে মাটির চাহিদা মেটাতে দেদারসে চলছে পাহাড় কাটা। পরিবেশ আইন ও বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার পাহাড় কাটার মাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘মোক্তার-নাজু’ নামের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লামা উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০টি বা তারও বেশি ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বর্ষার মধ্যেই বড় বড় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলা হয়েছে। কোথাও পাহাড়ের পাদদেশে জমা করা হয়েছে মাটির বিশাল স্তূপ। এসব মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্ষাকালে পাহাড় কাটার কারণে অতিবৃষ্টিতে এসব এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জির মতো সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে তারা জানান।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও বিভিন্ন রাসায়নিক নির্গমনের কারণে আশপাশের মাটি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, ‘আমি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার দায়ে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি। এ সময়ে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান রয়েছে।’

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কীভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও যদি একই এলাকায় ফের পাহাড় কাটা শুরু হয়, তাহলে এর পেছনে কারা ইন্ধন ও সহযোগিতা করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, পাহাড়ের মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার মেম্বার জানান, সিন্ডিকেটের বিষয় টি সত্যি নয় তবে কিছু কিছু ইটভাটায় পাহাড় কাটা হচ্ছে।




লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান

লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক অসহায় পরিবারকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ৮ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে উপজেলার ময়ূরখীল এলাকায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, ২২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টলারি লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমরান খলিল উপস্থিত থেকে ময়ূরখীল এলাকার মৃত ভিডিপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নানের পরিবারের হাতে এ অনুদান তুলে দেন। প্রদান করা সহায়তার মধ্যে ছিল সেলাই মেশিন, থ্রি-পিস, শাড়ি, বোরকার ওড়না এবং মুড়ি, চিড়া, চিনি ও পানীয়জলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি জোন কমান্ডারের নজরে এলে সেনাবাহিনী ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানো ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।




আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১

আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আলীকদম-চকরিয়া সড়কের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকার কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হোসাইন (৩৫) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোচপাড়া এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে চকরিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি আলীকদম যাচ্ছিল। পথে তারাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে সামনের চাকা ফেটে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই হোসাইনের মৃত্যু হয়।

আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিশাত বড়ুয়া জানান, চকরিয়া থেকে আলীকদম আসার পথে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ

মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ
ছবি সংগৃহীত।

মাদককে 'না' বলা, তরুণসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনধারার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। ‘দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পাঁচ কিলোমিটারের এ ম্যারাথনে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ অংশ নেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় রামগড় উপজেলার বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে অংশগ্রহণকারীরা বলিপাড়া থেকে খাগড়াবিল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন।

প্রতিযোগিতায় মাত্র ১৩ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন সেনাসদস্য মেহেদী। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন নোমান এবং তৃতীয় হন নাজমুল।

ম্যারাথনে প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে মেডেল, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেন ঢাকা থেকে আগত জাতীয় অ্যাথলেট ইমাজ উদ্দিন এবং রামগড়ের অ্যাথলেট জীবন ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মানিক সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, রামগড়ে এ ধরনের ম্যারাথন প্রতিযোগিতা এই প্রথম। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

আয়োজক আব্দুল হক মানিক জানান, গত ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ নিবন্ধন করে ম্যারাথনে অংশ নেন।

তিনি বলেন, “তরুণসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং একটি সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”

ভবিষ্যতেও রামগড়ে এ ধরনের সামাজিক, ক্রীড়া ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।