বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএস এর গোলাগুলি- এক জেএসএস সন্ত্রাসী নিহত: ১টি এসএমজি,২টি ম্যাগজিন ও সরঞ্জাম উদ্ধার- আটক-...
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএস এর গোলাগুলি- এক জেএসএস সন্ত্রাসী নিহত: ১টি এসএমজি,২টি ম্যাগজিন ও সরঞ্জাম উদ্ধার- আটক-১

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএস এর গোলাগুলি- এক জেএসএস সন্ত্রাসী নিহত: ১টি এসএমজি,২টি ম্যাগজিন ও সরঞ্জাম উদ্ধার- আটক-১
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর  সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।  এঘটনায় জেএসএস এর এক শসস্ত্র সদস্য  নিহত হয়েছে। তবে নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সাড়ে পাঁচটায় দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

637269183_1260665109493372_1730768104096599265_n


 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, রুমা সড়কের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকার সাইরন ম্রো  পাড়ায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল পৌছালে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের চূড়া থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ গুলি বিনীময়ের ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ১ সদস্যের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশউদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে জেএসএস এর এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থল'সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা জানান, তারাছা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সাইরন পাড়ায় বিকেলে থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা হয়।  তবে এলাকাটি দুর্গম ও নেটওয়ার্কবিহীন হওয়ার কারনে সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক জনের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।




কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব

কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক মাঝের পাড়া উপজাতীয় উধ্যুসীত আবাসিক এলাকার মত বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছে জেলা প্রশাসন। এই বির্তকিত ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিয়েছে কোটি টাকার বেশী।
জানা যায়,সারা দেশে ২৩ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া জনবসতিপুর্ন এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়। উক্ত জমি অধিগ্রহনের আপত্তি জানিয়ে এলাকাবাসী শিক্ষা উপদেষ্টা,  শিক্ষা সচিব, কারিগরি  বোর্ড চেয়ারম্যান, প্রকল্প পরিচালক ,  জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন। 
আবেদনে তারা বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে অনুপযোগী এই জমি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই এই বির্তকিত জমির প্রস্তাব করেন। এই জমির মালিক ফ্যসিস্ট সরকারে মন্ত্রীর এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরীর ভাই জাহেদ হোসেন চৌধুরী সহ ১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত কয়েকজন স্কুল শিক্ষক। এই চক্রটি আ'লীগ সরকারের আমলে সস্তায় পাহাড়ী জমি ক্রয় করে এবং সকারের প্রভাব বিস্তার করে উক্ত ভুমি অধিগ্রহণে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 
এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবী, এই জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন হলে,  স্থানীয় উপজাতীদের সাথে সার্বক্ষণিক ছাত্র/ ছাত্রীদের সংর্ঘষ সহ নানান সমস্যা হতে পারে।  যা জেলায় আইন শৃঙ্খলার মারাত্নক অবনতি ঘটবে। এলাকার বাসিন্দারা আরো বলেন, অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমি মহাসড়কের একেবারে সন্নিকটে। যা জেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই সড়কের পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে,  সড়কটি সবদিক থেকে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে। 
মাঝের পাড়ার বাসিন্দা ঘন্জ মেম্বার বলেন, যে জায়গাটি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়েছে অধিকাংশ পাহাড়। অবশিষ্ট ভুমি পাহাড়ী ছরা। এই এলাকায় যদি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে একদিকে পাহাড় কাটতে হবে অন্যদিকে পাহাড়ী ছরা বন্ধ করতে হবে। এতে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানিয়েছে,এই বির্তকিত জমি দ্রুত ভুমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তাদের সাথে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার সচেতন মহল এই জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া বন্ধ করে নতুন কোন জমি নির্বাচনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।




ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ

ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ
ছবি সংগৃহীত।

মিয়ানমারের ওয়ালিদং ট্রনিং ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সেই ৩ আরকান আর্মি কমান্ডোকে  কোর্টে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 
বুধবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারী)  সকালে তাদেরকে বান্দরবান কোর্টে প্রেরণ করেন। 
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবদুল বাতেন মৃধা।  
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,আটক ৩ জনকে ৩৪ বিজিবি জোয়ানরা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা আমতলী 
এলাকার লম্বামাঠ থেকে আটক করে সোমবার সন্ধ্যায়। তাদের কাছে ছিল পৌঁনে ২ লাখ  কিয়েত ( বর্মী টাকা)।
পরে তাদের বিষয়ে ৩৪ বিজিবির চাকঢালা বিওপির হাবিলদার জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-১৩ তারিখ -২৪/২/২০২৬ ইংরেজি।
কারণ তারা ৩ জনই বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলার নাগরিক। তারা যে জন্যেই সেখানে ( মিযানমারে) যাক না কেন,তারা ভিনদেশে গিয়েছে। টাকার লেন-দেন করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকাই তা প্রমান করে। যুদ্ধদের পোষাক বা অস্ত্র অথবা অন্য কোন ডকুমেন্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলা দেয়া হতো।
এখন দেয়া হয়েছে চোরাকারবার মামলা। যার ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি/২৬ বি ধারা। 
স্থানীয় আলী আকবর,মো:সোলেমান ও আবদুসচ্ছালাম বলেন ৩ আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাকে চোরাচালান মামলায় কোর্টে পাঠানোর জন্যে। আবার  অনেকে মাঝে  চাপা ক্ষোপের সৃষ্টিও  হয়েছে এ বিষয়ে।

তারা আরো বলেন সোমবার বিকেলে প্রথমে তাদেরকে স্থানীয়রা ধৃত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপকটে স্বীকার করেন,তারা ৩ জনই আরকান আর্মির কমান্ডো সদস্য। ওয়ালিদং নামক যুদ্ধ ঘাঁটি থেকে তারা পালিয়ে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে । 
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ফরিদুল আলম বলেন, অন্তত ৩ মাস তারা কমান্ডো ট্রেনিং দিয়েছে বলেছে স্থানীয়দের স্বীকার করেছে এ ৩ যুবক। পরে তাদের বিরুদ্ধে চোরাকারবার মামলা হয়। যা নিয়ে অনেকে হতাশ।  
অপর দিকে গ্রাম পুলিশ আলী হোসেন বলেন,তারা আরকান আর্মির সদস্য বলে আটকের প্রথম অবস্থাতেই  স্বীকার করেন তারা । এবং তারা কমান্ডোও নাকি । ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে মন্ডু শহরে যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলায় ভয়ে
তারা গোপনে পালিয়ে এসেছে । এছাড়া সেখানে তীব্র খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।

আমতলী মাঠ সীমান্তের কৃষক মো:সোলাইমান এ প্রতিবেদককে বলেন,
এই ৩ উপজাতীয় যুবক মিয়ানমান সীমান্ত পার হওয়ার প্রথম দৃশ্য দেখেন তিনি। তখন সময় ৪ টা। তারা ৩ জনে ২ টি ব্যাগ কাঁদে নিয়ে তার সামনে দিয়ে বাংরাদেশে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা বলেন ,ওয়ালিদং ট্রনিং সেন্টার থেকে তার পালিয়ে আসে এপারে। 
উল্লেখ্য,গত সোমবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কিয়েত সহ ৩ উপজাতীয় যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যারা আরকান আর্মির সদস্য বলে দাবী করেন তারা। আটককৃত এ যুবকরা হলেন, রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা থুইনুমং মার্মার ছেলে উয়ইমং মার্মা (২৫), বান্দরবানের রুমা উপজেলার মিলুচিং মার্মার ছেলে হ্লাচিং থোয়াই মার্মা (২৪) এবং একই এলাকার মংক্যাচিং মার্মার ছেলে গরাইমং মার্মা (৩০)।




বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ

বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি কাঠসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলা এলাকায় টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল পাহাড়ি সড়কে ওত পেতে থাকে। গভীর রাতে পাচারকারীরা ট্রাকযোগে কাঠ পাচারের চেষ্টা করলে কদুখোলা এলাকায় সেটিকে আটক করা হয়। অভিযানে ট্রাকটি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫৫০ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদার বলেন, “বনজ সম্পদ রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করছি। পাচারকারীরা কৌশলে ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও আমাদের নজরদারি এড়াতে পারেনি। অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেই এই পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছে।”

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ট্রাক ও কাঠের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাচার চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড় রোধে এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।