বান্দরবান জেলা পরিষদে বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এর অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

বান্দরবান জেলা পরিষদে বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এর অভিযোগ

বান্দরবান জেলা পরিষদে বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এর অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

স্থানীয় খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে।স্কীমের আওতায় প্রদত্ত বরাদ্দের অর্থ লোকদেখানো কিছু কর্মসূচি তে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর খবরও মিলেছে।অন্তর্বর্তীকালিন জেলা পরিষদের এমন সিদ্ধান্তের ঘটনায় দেখা দিয়েছে তুমুল প্রশ্ন এবং চলছে বিতর্কের ঝড়।অনুসন্ধানে জানা যায়,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে স্কীম প্রকল্পের এই কর্মসূচির অগ্রিম চেকও অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে হস্তান্তর করা হয়েছে।আহবায়কের একক সিদ্ধান্তে সরকারি স্কীমের প্রাপ্ত অর্থ ব্যায়ের কোন নিয়ম আছে কিনা এবং তিন বছরের একটি প্রকল্প নিয়ে এতো তড়িঘড়ি কেনও তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।তিন বছরের ক্রীড়া কর্মসূচি কেনও দশদিনের নেমে এলো তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।এমনকি প্রশিক্ষণ এর খেলোয়াড় বাছাই,স্থান নির্বাচন, সময়সীমা নির্ধারণসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহন করা হয়েছে এমন অভিযোগও ক্রীড়া সংগঠকদের মুখে মুখে।এতে অসন্তুষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ক্রীড়াসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা বেশিরভাগ ক্রীড়া সংগঠক।কোন রকম নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ক্রীড়া সম্পৃক্তরা।এবিষয়ে বান্দরবানের স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জানান,অপরিকল্পিত ও দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত প্রকল্পের কারণে খেলোয়াড়দের দক্ষতা নিশ্চিত হবেনা।বরং পুরো অর্থটাই অপচয় হবে।মূলত পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাবের কারনেই ক্রীড়ার মান উন্নয়ন সম্ভব না।তড়িঘড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।এতে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি কে প্রশ্নবিদ্ধ করবে সাথে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্ন উঠবে।এবিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে জানান,প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের কোনও এখতিয়ারে নাই আমরা শুধু এক্সিকিউশন এর কাজটা করছি।এদিকে তড়িঘড়ি করে ক্রীড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্রীড়া বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক এড.উবাথোয়াই মার্মা জানান,তড়িঘড়ি করে কিছু হচ্ছে এমন না বরং জুলাই তে অর্থবছর শুরু হয়েছে সে হিসেবে একটি প্রক্রিয়াতো আগে থেকেই চলমান রয়েছে।সব সদস্যদের নিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সরাসরি তদারকিতে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে।কর্মসূচির জন্য কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এটা দেখে বলতে পারবো তবে বাজেট এর চুড়ান্ত অনুমোদন হয়নি।ফুটবল প্রশিক্ষণে ডিএসএ বা ডিএফএ এর কোনও সম্পৃক্ততা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদ সদস্য উবাথোয়াই মার্মা বলেন,এই সংগঠন গুলো জেলা পরিষদের অন্তর্ভূক্ত কোনও সংগঠন না সুতরাং তাদের কোনও সম্পৃক্ততা থাকবে না।তবে সহায়তার প্রয়োজন হলে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন ততটুকু সহায়তা চাওয়া হবে।ফুটবল ইভেন্ট ব্যাতিত আর কোনও ইভেন্ট কে প্রশিক্ষণের আওতায় না আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর পি এস টু চেয়ারম্যান (অঃ দাঃ) ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবুল মনসুর মুঠোফোনে জানান,এবিষয়ে অবগত নই।আপনি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।উল্লেখ্য,২০২৫ সালের ২৯জুন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই এর সভাপতিত্বে ১০ম জেলা পরিষদের ৮ম মাসিক সভায় জেলার ক্রীড়া খাতের মান উন্নয়নে করনীয় নির্ধারন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।বাজেট জটিলতায় সে সময় কোনও অর্থ না থাকায় প্রাথমিকভাবে জেলা পরিষদ সদস্য এড.উবাথোয়াই মার্মা কে আহ্বায়ক এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার কে সদস্য সচিব করে ৭ জনের একটি কমিটি অনুমোদন করে জেলা পরিষদ।এতে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আহ্বায়ক জাবেদ রেজা,ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো.ইসলাম কোম্পানী,জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার এসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক আবু তাহের টিপু,জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এর রফিকুল আলম মামুন,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য থুইসিং প্রু লুবুকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি রেজুলেশন আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।তবে গঠিত এই কমিটির বেশিরভাগ সদস্যরা জানেনও না বান্দরবান জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় কোনও কর্মসূচি বাস্তবায়ন উপজেলা পর্যায়ে শুরু হয়েছে কিনা।পরে থানচি, আলীকদম ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হবার বিষয়টি জানতে চাইলে এবিষয়ে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এমন কমিটি গঠন করেন।প্রভাবশালী ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের কমিটিতে রাখা হলেও শুভঙ্করের ফাঁকি নিশ্চিত করতে গঠন করা কমিটির আহ্বায়ক ছাড়া আর কোনও সদস্য এসব কর্মসূচির বিষয়ে কিছু জানেন না।




কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব

কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক মাঝের পাড়া উপজাতীয় উধ্যুসীত আবাসিক এলাকার মত বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছে জেলা প্রশাসন। এই বির্তকিত ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিয়েছে কোটি টাকার বেশী।
জানা যায়,সারা দেশে ২৩ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া জনবসতিপুর্ন এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়। উক্ত জমি অধিগ্রহনের আপত্তি জানিয়ে এলাকাবাসী শিক্ষা উপদেষ্টা,  শিক্ষা সচিব, কারিগরি  বোর্ড চেয়ারম্যান, প্রকল্প পরিচালক ,  জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন। 
আবেদনে তারা বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে অনুপযোগী এই জমি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই এই বির্তকিত জমির প্রস্তাব করেন। এই জমির মালিক ফ্যসিস্ট সরকারে মন্ত্রীর এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরীর ভাই জাহেদ হোসেন চৌধুরী সহ ১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত কয়েকজন স্কুল শিক্ষক। এই চক্রটি আ'লীগ সরকারের আমলে সস্তায় পাহাড়ী জমি ক্রয় করে এবং সকারের প্রভাব বিস্তার করে উক্ত ভুমি অধিগ্রহণে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 
এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবী, এই জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন হলে,  স্থানীয় উপজাতীদের সাথে সার্বক্ষণিক ছাত্র/ ছাত্রীদের সংর্ঘষ সহ নানান সমস্যা হতে পারে।  যা জেলায় আইন শৃঙ্খলার মারাত্নক অবনতি ঘটবে। এলাকার বাসিন্দারা আরো বলেন, অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমি মহাসড়কের একেবারে সন্নিকটে। যা জেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই সড়কের পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে,  সড়কটি সবদিক থেকে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে। 
মাঝের পাড়ার বাসিন্দা ঘন্জ মেম্বার বলেন, যে জায়গাটি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়েছে অধিকাংশ পাহাড়। অবশিষ্ট ভুমি পাহাড়ী ছরা। এই এলাকায় যদি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে একদিকে পাহাড় কাটতে হবে অন্যদিকে পাহাড়ী ছরা বন্ধ করতে হবে। এতে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানিয়েছে,এই বির্তকিত জমি দ্রুত ভুমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তাদের সাথে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার সচেতন মহল এই জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া বন্ধ করে নতুন কোন জমি নির্বাচনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।




ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ

ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ
ছবি সংগৃহীত।

মিয়ানমারের ওয়ালিদং ট্রনিং ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সেই ৩ আরকান আর্মি কমান্ডোকে  কোর্টে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 
বুধবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারী)  সকালে তাদেরকে বান্দরবান কোর্টে প্রেরণ করেন। 
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবদুল বাতেন মৃধা।  
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,আটক ৩ জনকে ৩৪ বিজিবি জোয়ানরা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা আমতলী 
এলাকার লম্বামাঠ থেকে আটক করে সোমবার সন্ধ্যায়। তাদের কাছে ছিল পৌঁনে ২ লাখ  কিয়েত ( বর্মী টাকা)।
পরে তাদের বিষয়ে ৩৪ বিজিবির চাকঢালা বিওপির হাবিলদার জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-১৩ তারিখ -২৪/২/২০২৬ ইংরেজি।
কারণ তারা ৩ জনই বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলার নাগরিক। তারা যে জন্যেই সেখানে ( মিযানমারে) যাক না কেন,তারা ভিনদেশে গিয়েছে। টাকার লেন-দেন করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকাই তা প্রমান করে। যুদ্ধদের পোষাক বা অস্ত্র অথবা অন্য কোন ডকুমেন্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলা দেয়া হতো।
এখন দেয়া হয়েছে চোরাকারবার মামলা। যার ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি/২৬ বি ধারা। 
স্থানীয় আলী আকবর,মো:সোলেমান ও আবদুসচ্ছালাম বলেন ৩ আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাকে চোরাচালান মামলায় কোর্টে পাঠানোর জন্যে। আবার  অনেকে মাঝে  চাপা ক্ষোপের সৃষ্টিও  হয়েছে এ বিষয়ে।

তারা আরো বলেন সোমবার বিকেলে প্রথমে তাদেরকে স্থানীয়রা ধৃত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপকটে স্বীকার করেন,তারা ৩ জনই আরকান আর্মির কমান্ডো সদস্য। ওয়ালিদং নামক যুদ্ধ ঘাঁটি থেকে তারা পালিয়ে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে । 
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ফরিদুল আলম বলেন, অন্তত ৩ মাস তারা কমান্ডো ট্রেনিং দিয়েছে বলেছে স্থানীয়দের স্বীকার করেছে এ ৩ যুবক। পরে তাদের বিরুদ্ধে চোরাকারবার মামলা হয়। যা নিয়ে অনেকে হতাশ।  
অপর দিকে গ্রাম পুলিশ আলী হোসেন বলেন,তারা আরকান আর্মির সদস্য বলে আটকের প্রথম অবস্থাতেই  স্বীকার করেন তারা । এবং তারা কমান্ডোও নাকি । ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে মন্ডু শহরে যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলায় ভয়ে
তারা গোপনে পালিয়ে এসেছে । এছাড়া সেখানে তীব্র খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।

আমতলী মাঠ সীমান্তের কৃষক মো:সোলাইমান এ প্রতিবেদককে বলেন,
এই ৩ উপজাতীয় যুবক মিয়ানমান সীমান্ত পার হওয়ার প্রথম দৃশ্য দেখেন তিনি। তখন সময় ৪ টা। তারা ৩ জনে ২ টি ব্যাগ কাঁদে নিয়ে তার সামনে দিয়ে বাংরাদেশে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা বলেন ,ওয়ালিদং ট্রনিং সেন্টার থেকে তার পালিয়ে আসে এপারে। 
উল্লেখ্য,গত সোমবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কিয়েত সহ ৩ উপজাতীয় যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যারা আরকান আর্মির সদস্য বলে দাবী করেন তারা। আটককৃত এ যুবকরা হলেন, রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা থুইনুমং মার্মার ছেলে উয়ইমং মার্মা (২৫), বান্দরবানের রুমা উপজেলার মিলুচিং মার্মার ছেলে হ্লাচিং থোয়াই মার্মা (২৪) এবং একই এলাকার মংক্যাচিং মার্মার ছেলে গরাইমং মার্মা (৩০)।




বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ

বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি কাঠসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলা এলাকায় টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল পাহাড়ি সড়কে ওত পেতে থাকে। গভীর রাতে পাচারকারীরা ট্রাকযোগে কাঠ পাচারের চেষ্টা করলে কদুখোলা এলাকায় সেটিকে আটক করা হয়। অভিযানে ট্রাকটি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫৫০ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদার বলেন, “বনজ সম্পদ রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করছি। পাচারকারীরা কৌশলে ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও আমাদের নজরদারি এড়াতে পারেনি। অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেই এই পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছে।”

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ট্রাক ও কাঠের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাচার চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড় রোধে এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।