বান্দরবান জেলা পরিষদে বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এর অভিযোগ

স্থানীয় খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর বিশেষ বরাদ্দের ক্রীড়া প্রকল্প তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে।স্কীমের আওতায় প্রদত্ত বরাদ্দের অর্থ লোকদেখানো কিছু কর্মসূচি তে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর খবরও মিলেছে।অন্তর্বর্তীকালিন জেলা পরিষদের এমন সিদ্ধান্তের ঘটনায় দেখা দিয়েছে তুমুল প্রশ্ন এবং চলছে বিতর্কের ঝড়।অনুসন্ধানে জানা যায়,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে স্কীম প্রকল্পের এই কর্মসূচির অগ্রিম চেকও অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে হস্তান্তর করা হয়েছে।আহবায়কের একক সিদ্ধান্তে সরকারি স্কীমের প্রাপ্ত অর্থ ব্যায়ের কোন নিয়ম আছে কিনা এবং তিন বছরের একটি প্রকল্প নিয়ে এতো তড়িঘড়ি কেনও তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।তিন বছরের ক্রীড়া কর্মসূচি কেনও দশদিনের নেমে এলো তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।এমনকি প্রশিক্ষণ এর খেলোয়াড় বাছাই,স্থান নির্বাচন, সময়সীমা নির্ধারণসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহন করা হয়েছে এমন অভিযোগও ক্রীড়া সংগঠকদের মুখে মুখে।এতে অসন্তুষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ক্রীড়াসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা বেশিরভাগ ক্রীড়া সংগঠক।কোন রকম নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ক্রীড়া সম্পৃক্তরা।এবিষয়ে বান্দরবানের স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জানান,অপরিকল্পিত ও দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত প্রকল্পের কারণে খেলোয়াড়দের দক্ষতা নিশ্চিত হবেনা।বরং পুরো অর্থটাই অপচয় হবে।মূলত পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাবের কারনেই ক্রীড়ার মান উন্নয়ন সম্ভব না।তড়িঘড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।এতে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি কে প্রশ্নবিদ্ধ করবে সাথে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্ন উঠবে।এবিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে জানান,প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের কোনও এখতিয়ারে নাই আমরা শুধু এক্সিকিউশন এর কাজটা করছি।এদিকে তড়িঘড়ি করে ক্রীড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্রীড়া বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক এড.উবাথোয়াই মার্মা জানান,তড়িঘড়ি করে কিছু হচ্ছে এমন না বরং জুলাই তে অর্থবছর শুরু হয়েছে সে হিসেবে একটি প্রক্রিয়াতো আগে থেকেই চলমান রয়েছে।সব সদস্যদের নিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সরাসরি তদারকিতে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে।কর্মসূচির জন্য কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এটা দেখে বলতে পারবো তবে বাজেট এর চুড়ান্ত অনুমোদন হয়নি।ফুটবল প্রশিক্ষণে ডিএসএ বা ডিএফএ এর কোনও সম্পৃক্ততা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদ সদস্য উবাথোয়াই মার্মা বলেন,এই সংগঠন গুলো জেলা পরিষদের অন্তর্ভূক্ত কোনও সংগঠন না সুতরাং তাদের কোনও সম্পৃক্ততা থাকবে না।তবে সহায়তার প্রয়োজন হলে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন ততটুকু সহায়তা চাওয়া হবে।ফুটবল ইভেন্ট ব্যাতিত আর কোনও ইভেন্ট কে প্রশিক্ষণের আওতায় না আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর পি এস টু চেয়ারম্যান (অঃ দাঃ) ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবুল মনসুর মুঠোফোনে জানান,এবিষয়ে অবগত নই।আপনি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।উল্লেখ্য,২০২৫ সালের ২৯জুন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই এর সভাপতিত্বে ১০ম জেলা পরিষদের ৮ম মাসিক সভায় জেলার ক্রীড়া খাতের মান উন্নয়নে করনীয় নির্ধারন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।বাজেট জটিলতায় সে সময় কোনও অর্থ না থাকায় প্রাথমিকভাবে জেলা পরিষদ সদস্য এড.উবাথোয়াই মার্মা কে আহ্বায়ক এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার কে সদস্য সচিব করে ৭ জনের একটি কমিটি অনুমোদন করে জেলা পরিষদ।এতে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আহ্বায়ক জাবেদ রেজা,ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো.ইসলাম কোম্পানী,জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার এসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক আবু তাহের টিপু,জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এর রফিকুল আলম মামুন,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য থুইসিং প্রু লুবুকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি রেজুলেশন আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।তবে গঠিত এই কমিটির বেশিরভাগ সদস্যরা জানেনও না বান্দরবান জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় কোনও কর্মসূচি বাস্তবায়ন উপজেলা পর্যায়ে শুরু হয়েছে কিনা।পরে থানচি, আলীকদম ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হবার বিষয়টি জানতে চাইলে এবিষয়ে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এমন কমিটি গঠন করেন।প্রভাবশালী ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের কমিটিতে রাখা হলেও শুভঙ্করের ফাঁকি নিশ্চিত করতে গঠন করা কমিটির আহ্বায়ক ছাড়া আর কোনও সদস্য এসব কর্মসূচির বিষয়ে কিছু জানেন না।











