বাইরে স্যালাইন না মেলায় এক ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পুশ, রোগীর মৃত্যু

পেটব্যথা নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এক রোগী। চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেন। ওষুধ পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক সংলগ্ন ফার্মেসিগুলোতে স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে তীব্র পেটব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন রোগী, তাঁর অবস্থাও ছিল আশঙ্কাজনক। দেরি হওয়ার কারণ জানতে রোগীর স্বজনরা ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ব্যবস্থাপত্রে লেখা স্যালাইনটি পাওয়া যাচ্ছে না। পাশে থাকা এক বয়স্ক নার্স তা শুনে স্যালাইনটি হাসপাতালেই আছে জানিয়ে স্বজনদের ফিরে আসতে বলেন। দ্রুত স্যালাইন পুশ করার পরপরই ঘটে মৃত্যু। নিহত রোগীর পাশে থাকা তাঁর হতভাগা মা সাংবাদিকদের কাছে এভাবে ঘটনার বিবরণ দেন।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালেই যদি স্যালাইন থাকত, তবে কেন তা বাইরে থেকে কিনতে পাঠানো হলো? সময়মতো স্যালাইন পুশ করা গেলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো যেত। গত সোমবার রাতে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ শহিদুল করিম মানিক (৪২) উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল আব্দুর রশিদ সারাং বাড়ির মৃত নুরুচ্ছাফার ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।
জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মানিককে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তির চিকিৎসাপত্র দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে স্বজনরা বাইরে স্যালাইন না পাওয়ার কথা জানালে হাসপাতাল থেকেই স্যালাইন এনে পুশ করা হয়; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা হাসপাতালের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে একবার বসা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবারও সভা ডাকা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের জানালার কাচ ও প্রসূতি কক্ষের (ডেলিভারি রুম) থাই গ্লাসসহ বেশ কয়েকটি জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় কোনো পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।











