ফটিকছড়িতে বাবার সঙ্গে জমিতে গিয়ে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট শিশু
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে বাবার সঙ্গে জমিতে গিয়ে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট শিশু

ফটিকছড়িতে বাবার সঙ্গে জমিতে গিয়ে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট শিশু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবার সঙ্গে জমিতে চাষাবাদ দেখতে গিয়ে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে ত্বহা নামের আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব ফটিকছড়ির পুরাতন স্লুইসগেট এলাকার চেঙ্গরবিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ত্বহা ভূজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপুর টিলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কোরবান আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে কোরবান আলী ট্রাক্টর নিয়ে চেঙ্গরবিল এলাকায় জমি চাষ করতে যান। এ সময় ছেলে ত্বহাও বাবার সঙ্গে ট্রাক্টরে ছিল। একপর্যায়ে বাবার অগোচরে ত্বহা ট্রাক্টর থেকে পড়ে যায়। পরে ট্রাক্টরের চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এস এম মুসলিম উদ্দিন বলেন, “শিশুটি বাবার সঙ্গে জমিতে গিয়েছিল। হঠাৎ ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়।”

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ফটিকছড়িতে মেহেদির অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে মেহেদির অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মেহেদির অনুষ্ঠানে জেনারেটরের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আয়েশা (৬০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের পূর্ব শাহনগর গ্রামের রিজোয়ান উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আয়েশা ওই এলাকার মোহাম্মদ শফির স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশীর বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার জন্য টাঙানো বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নুর আয়েশা। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে ২ সেনাসদস্য নিহত

হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে ২ সেনাসদস্য নিহত
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিকভাবে ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ জন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ সময় অপর এক সৈনিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহত সৈনিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




বাইরে স্যালাইন না মেলায় এক ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পুশ, রোগীর মৃত্যু

বাইরে স্যালাইন না মেলায় এক ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পুশ, রোগীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

পেটব্যথা নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এক রোগী। চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেন। ওষুধ পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক সংলগ্ন ফার্মেসিগুলোতে স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে তীব্র পেটব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন রোগী, তাঁর অবস্থাও ছিল আশঙ্কাজনক। দেরি হওয়ার কারণ জানতে রোগীর স্বজনরা ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ব্যবস্থাপত্রে লেখা স্যালাইনটি পাওয়া যাচ্ছে না। পাশে থাকা এক বয়স্ক নার্স তা শুনে স্যালাইনটি হাসপাতালেই আছে জানিয়ে স্বজনদের ফিরে আসতে বলেন। দ্রুত স্যালাইন পুশ করার পরপরই ঘটে মৃত্যু। নিহত রোগীর পাশে থাকা তাঁর হতভাগা মা সাংবাদিকদের কাছে এভাবে ঘটনার বিবরণ দেন।

পরিবারের দাবি, হাসপাতালেই যদি স্যালাইন থাকত, তবে কেন তা বাইরে থেকে কিনতে পাঠানো হলো? সময়মতো স্যালাইন পুশ করা গেলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো যেত। গত সোমবার রাতে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ শহিদুল করিম মানিক (৪২) উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল আব্দুর রশিদ সারাং বাড়ির মৃত নুরুচ্ছাফার ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।

জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মানিককে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তির চিকিৎসাপত্র দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে স্বজনরা বাইরে স্যালাইন না পাওয়ার কথা জানালে হাসপাতাল থেকেই স্যালাইন এনে পুশ করা হয়; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা হাসপাতালের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে একবার বসা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবারও সভা ডাকা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের জানালার কাচ ও প্রসূতি কক্ষের (ডেলিভারি রুম) থাই গ্লাসসহ বেশ কয়েকটি জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় কোনো পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।