নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিন একই সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ঘুমধুম সীমান্তের জামালের ঘের এলাকায় এসব অভিযান চালায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)।
আটক রোহিঙ্গা যুবকের নাম নুর মোহাম্মদ (২০)। তিনি এফডিএমএন ক্যাম্প-১-এর এফ/১৩ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. অলি আহমদ।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩৪ বিজিবির ঘুমধুম বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলকারী নুর মোহাম্মদকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই এলাকার পৃথক অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালের ঘের এলাকায় টহল দলের সদস্যরা পিস্তলটি পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। তবে এ সময় অস্ত্রটির সঙ্গে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, "সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান চলছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাই পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে একটি চোরাকারবারি চক্র মিয়ানমারের চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাচার করে আসছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ একজনকে আটক এবং বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক নুর মোহাম্মদকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
অন্যদিকে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে অস্ত্রটি হস্তান্তর করা হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অস্ত্রটির উৎস এবং কারা এটি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।









