বন্যায় গৃহহীন পরিবারের পাশে জামায়াত, সাতকানিয়ায় ঢেউটিন বিতরণ করলেন শাহজাহান চৌধুরী এমপি
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

বন্যায় গৃহহীন পরিবারের পাশে জামায়াত, সাতকানিয়ায় ঢেউটিন বিতরণ করলেন শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় গৃহহীন পরিবারের পাশে জামায়াত, সাতকানিয়ায় ঢেউটিন বিতরণ করলেন শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক বন্যায় বসতঘর বিধ্বস্ত হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া উপজেলা শাখা। সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল রোববার সকালে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের তাজমহল কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের সেক্রেটারি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং অফিস সেক্রেটারি মো. আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সোনাকানিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মুনির আহমদ, মাদার্শা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কে এম আবু মুছা, নলুয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, চরতী ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ হাশেমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বন্যায় যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠান শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। এ সময় সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদের অর্থায়নে এ ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।




পটিয়ায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন

পটিয়ায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চার তলাবিশিষ্ট আধুনিক নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবন।

নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নির্মাণাধীন প্রকল্প পরিদর্শন করেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পরিদর্শন শেষে ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চার তলা ভবনে আধুনিক চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হবে। নতুন ভবনটি চালু হলে ধলঘাট ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ আরও উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন ২০২৮-এর মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ উল্লাহ, শাহ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসাসেবা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হতো। নতুন ভবনের নির্মাণ শেষ হলে স্বাস্থ্যসেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি রোগীদের দুর্ভোগও অনেকাংশে কমে আসবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




পটিয়ায় আখ চাষে সফলতা: কৃষক সেতু রুদ্রের মুখে হাসি

পটিয়ায় আখ চাষে সফলতা: কৃষক সেতু রুদ্রের মুখে হাসি
ছবি সংগৃহীত।

একসময় চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটত পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের রুদ্রপাড়ার সেতু রুদ্রের পরিবারের। অনেক দিন ভাতের পরিবর্তে পান্তা, বিস্কুট কিংবা মুড়ি খেয়েই ক্ষুধা নিবারণ করতে হতো। আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়ার সুযোগও হয়নি তাঁর। সেই কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে আজ কৃষিকাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সেতু রুদ্রের বাবা দুলাল রুদ্র একজন সাধারণ কৃষক। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতে করতে কৃষির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে নিজের ও পরিবারের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রায় পাঁচ গণ্ডা জমিতে আখ (আঁক) চাষ শুরু করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে এবার তাঁর ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে।

বর্তমানে তিনি পটিয়ার কমল মুন্সিরহাট, অলীরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে আখ বিক্রি করছেন। এতে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সেতু রুদ্রের এই সাফল্য এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেও যে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেফালী রুদ্র বলেন, “সেতু রুদ্র অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য তরুণ ও যুবকদের কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

কৃষক সেতু রুদ্র বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। কৃষির প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ছিল। তাই নিজের সঞ্চিত টাকা দিয়ে আখ চাষ শুরু করি। এখন বাজারে আখ বিক্রি করে সংসারের হাল ধরতে পেরেছি। এবার আমার ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে।”

স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা এম এ আজিজ বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফসল চাষ এবং বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হলে সেতু রুদ্রের মতো আরও অনেক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

এতে একদিকে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সেতু রুদ্রের মতো আরও অনেক তরুণ কৃষিতে সফল হয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।




আনোয়ারায় বসতঘর ও গোয়ালঘর গুঁড়িয়ে দিল বন্য হাতি

আনোয়ারায় বসতঘর ও গোয়ালঘর গুঁড়িয়ে দিল বন্য হাতি
হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ওসমানের বসতঘর

আনোয়ারায় দেয়াং পাহাড়ে অবস্থানরত একদল বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে এসে কৃষকের ৩টি গোয়ালঘর ও একটি বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ফসলাদি নষ্টসহ গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে ভোরে ফিরে যায় হাতির দলটি।

রবিবার (২৬ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক মাহমুদুল্লাহপাড়ায় এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় হাতির দলটি মাহমুদুল্লাহপাড়ার মো. ওসমান গনির বসতঘর এবং মো. শাহ আলম, মো. আবুল কালাম ও মো. লিটনের তিনটি গোয়ালঘর ভাঙচুর করে। এ ছাড়া ফলজ ও কাঠজাতীয় নারকেল, কাঁঠাল ও সুপারিগাছসহ নানা ফসলি গাছ উপড়ে ফেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত মো. ওসমান গনি বলেন, “রাত ১টার দিকে ২টি হাতি হঠাৎ আমার বাড়িতে এসে ঘরের দেয়াল ভেঙে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে উঠানের ফসলি গাছগুলো উপড়ে ফেলে। এতে আমার লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত হাতি আমার বাড়িতে ৫ বার তাণ্ডব চালিয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হাতি তাড়ানোর জন্য বনবিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট দল থাকলেও তারা মাঠে থাকে না।”

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে বাঁশখালী পাহাড় থেকে বন্য হাতির দলটি আনোয়ারা দেয়াং পাহাড়ে এসে জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। তিন মাস আগে তারা ফিরে গিয়েছিল; এতদিন আনোয়ারা ও কর্ণফুলী—এই দুই উপজেলার মানুষ শান্তিতে ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে আবারও হাতির দলটি ফিরে এসে তাণ্ডব শুরু করেছে। বনবিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট দলের লোকজন থাকলেও হাতি এলে তাদের তেমন দেখা যায় না।

এ বিষয়ে বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসরাইল হক বলেন, “বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”