পটিয়ায় আখ চাষে সফলতা: কৃষক সেতু রুদ্রের মুখে হাসি

একসময় চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটত পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের রুদ্রপাড়ার সেতু রুদ্রের পরিবারের। অনেক দিন ভাতের পরিবর্তে পান্তা, বিস্কুট কিংবা মুড়ি খেয়েই ক্ষুধা নিবারণ করতে হতো। আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়ার সুযোগও হয়নি তাঁর। সেই কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে আজ কৃষিকাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
সেতু রুদ্রের বাবা দুলাল রুদ্র একজন সাধারণ কৃষক। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতে করতে কৃষির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে নিজের ও পরিবারের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রায় পাঁচ গণ্ডা জমিতে আখ (আঁক) চাষ শুরু করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে এবার তাঁর ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে।
বর্তমানে তিনি পটিয়ার কমল মুন্সিরহাট, অলীরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে আখ বিক্রি করছেন। এতে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, সেতু রুদ্রের এই সাফল্য এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেও যে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেফালী রুদ্র বলেন, “সেতু রুদ্র অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য তরুণ ও যুবকদের কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
কৃষক সেতু রুদ্র বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। কৃষির প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ছিল। তাই নিজের সঞ্চিত টাকা দিয়ে আখ চাষ শুরু করি। এখন বাজারে আখ বিক্রি করে সংসারের হাল ধরতে পেরেছি। এবার আমার ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে।”
স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা এম এ আজিজ বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফসল চাষ এবং বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হলে সেতু রুদ্রের মতো আরও অনেক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
এতে একদিকে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সেতু রুদ্রের মতো আরও অনেক তরুণ কৃষিতে সফল হয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।











