পটিয়ায় বাড়ির ছাদে থাই আনার ও মালটা চাষে প্রশংসিত তরুণ
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন

পটিয়ায় বাড়ির ছাদে থাই আনার ও মালটা চাষে প্রশংসিত তরুণ

পটিয়ায় বাড়ির ছাদে থাই আনার ও মালটা চাষে প্রশংসিত তরুণ
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলার খরনা-কচুয়াই ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার তরুণ শিক্ষানবীশ আইনজীবী আবদুল আজিজ নিজের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে তাঁর ছাদবাগানে থাই জাতের বড় আনার (ডালিম) ও মালটার সফল ফলন স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শুধু থাই আনারই নয়, তাঁর ছাদবাগানে রয়েছে আঙুর, আম, মালটা, কমলা, লিচুসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ। নিয়মিত পরিচর্যা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সীমিত জায়গায় তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ও সমৃদ্ধ একটি ফলের বাগান।

আবদুল আজিজ জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা থেকে উন্নত জাতের ফলের চারা সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো টবে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ছাদেই ফল উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিনের শ্রম ও যত্নের ফল হিসেবে এবার থাই জাতের বড় আনার ও মালটার সফল ফলন পেয়েছেন, যা তাঁর কাছে বড় অর্জন।

তিনি বলেন, ছাদবাগান শুধু একটি শখ নয়, এটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফলের উৎস হতে পারে। আমি চাই আরও তরুণ ছাদবাগানে আগ্রহী হোক এবং নিজেদের বাড়িতে সবুজের পরিসর গড়ে তুলুক। কেউ ছাদবাগান করতে আগ্রহী হলে আমি সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বলেন, আবদুল আজিজ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যমী একজন তরুণ। কোনো ধরনের সরকারি বা কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি ছাদে বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন করে অসাধারণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু এলাকাবাসীকেই অনুপ্রাণিত করছে না, বরং ছাদবাগান বিষয়ে নতুন আগ্রহও সৃষ্টি করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সহায়তা পেলে তিনি আরও বড় পরিসরে সফলতা অর্জন করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের এ সময়ে ছাদবাগান পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের একটি কার্যকর মাধ্যম। আবদুল আজিজের উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি, শ্রম ও সঠিক পরিচর্যা থাকলে সীমিত জায়গাতেও ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন সম্ভব।




মির্জাখীল দরবারশরিফে তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের প্রথম ওরস

মির্জাখীল দরবারশরিফে তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের প্রথম ওরস
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল দরবারশরিফে আগামী ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার থেকে শুক্রবার) তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিন সৈয়দ মাওলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.)-এর প্রথম ওরসশরিফ ও ওফাত দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষে আনোয়ারা উপজেলার হাজার হাজার ভক্ত, মুরিদ ও আশেকান ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

সিলসিলা-ই-আলিয়া জাহাঙ্গীরিয়ার প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র মির্জাখীল দরবারশরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঙ্গীর ইমামুল আরেফিন সৈয়দ মাওলানা ড. মুহাম্মদ মকসুদুর রহমান (ক.)-এর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ওরস উপলক্ষে কোরআন তিলওয়াত, দোয়া মাহফিল, ফাতিহা পাঠ এবং হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

মির্জাখীল দরবারশরিফ সিলসিলা-ই-আলিয়া জাহাঙ্গীরিয়ার দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। এ দরবারে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পূর্ববর্তী পীর-মাশায়েখদের ওরসশরিফ পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন ও প্রতি মাসে নিয়মিত ফাতিহা ও বিভিন্ন ধর্মীয় মাহফিলের আয়োজন করা হয়। খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিল এ ধারার উল্লেখযোগ্য আয়োজন।

সিলসিলার পীর-মাশায়েখগণ শরিয়তের অনুশাসন, তরিকতের সাধনা, হাকিকতের উপলব্ধি ও মারেফতের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। তাঁদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও কর্মধারায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, পীর-মুর্শিদের নির্দেশনা অনুসরণ এবং মানবসেবার আদর্শ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনব্যাপী এ ওরসশরিফে দেশ-বিদেশের মুরিদ, ভক্ত, আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে দরবারশরিফে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হবে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিন (ক.)-এর স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধির সাধনা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ ওরসশরিফের আয়োজন করা হয়েছে।




আনোয়ারায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৭৬,২৭২ পরিবার, টাকা দাবির বিষয়ে সতর্কতা

আনোয়ারায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৭৬,২৭২ পরিবার, টাকা দাবির বিষয়ে সতর্কতা
আনোয়ারায় প্রেস কনফারেন্সে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৭৬ হাজার ২৭২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। কার্যক্রমের প্রথম দিন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিওরি গ্রাম থেকে এটি শুরু করা হবে।

সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিজওয়ান আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ব্যক্তিগত সহকারী ও বিএনপি নেতা আখতার নবী চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোন পরিবারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে পরিবারগুলোর প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩টি করে ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একই সঙ্গে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে কেউ টাকা দাবি করলে তা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস করা যাবে না। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই।"




বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
বাঁশখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এক প্রস্তুতি সভা সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি।

সভায় বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের বাঁশখালী উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট লায়ন শেখর দত্ত, সেক্রেটারি প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল মোস্তফা, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আমিনুর রহমান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বদরুল হক, পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের, বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার, হেফাজতে ইসলাম বাঁশখালী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দিন খান জসিম, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ঝুন্টু কুমার দাশ প্রমুখ।

সভায় মণ্ডপগুলো মাদকমুক্ত রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিতকরণ, আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বক্তারা সম্প্রীতির বাংলাদেশে তথা বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।