পটিয়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

পটিয়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

পটিয়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়। ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপন কান্তি দে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ। বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি পাল প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা নজরুলের দেশপ্রেম, মানবতাবাদী চিন্তা ও জীবনাদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও অভিনয়সহ পাঁচটি ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপন কান্তি দে বলেন, “এর আগে আমরা কখনো এভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করিনি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নজরুলের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




ফটিকছড়ি উত্তরে হবে দেড়শো শয্যার হাসপাতাল

ফটিকছড়ি উত্তরে হবে দেড়শো শয্যার হাসপাতাল
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবসৃষ্ট ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় ১৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১০ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রের ১৬ নং ক্রমিকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম রয়েছে। এর ফলে নতুন উপজেলার জন্য ১৫১ শয্যার সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগটি সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হলো।

সরেজমিনে উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রসূতি, শিশু ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁদের দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। জটিল রোগের চিকিৎসায় অনেককে ফটিকছড়ি ও রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালে যেতে হয়। ফলে, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসনিক সেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। ১৫১ শয্যার হাসপাতাল হলে স্থানীয় পর্যায়ে রোগী ভর্তি ও জরুরি চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে।

এদিকে, উপজেলা সদর কোথায় হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। এ নিয়ে করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সদর দপ্তরের বিষয়ে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কোথায় নির্মাণ করা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি পরিপত্রে হাসপাতালের স্থান, জমি বরাদ্দ বা অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, নতুন উপজেলা হওয়ায় মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। চিকিৎসার জন্য যাতে দূরে যেতে না হয়, দ্রুত সেই ব্যবস্থা করা দরকার। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হোক। স্থান নির্ধারণ, জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনুমোদনের একটি কপি দেখেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে ফটিকছড়ি উত্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে। জনগণের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য ও উপযুক্ত স্থানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হলে এর সুফল বেশি মানুষ পাবে।




পটিয়ায় শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজন আটক

পটিয়ায় শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজন আটক
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে মো. ফারুক (৪২) ও কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সদরের কাগজীপাড়া এলাকার আশরাফ আলী একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা (৯) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। এ সময় এক রিকশাচালক ও এক নারী তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তুলে নেন।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পরও অটোরিকশাটি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অটোরিকশাটির গতিরোধ করেন। পরে স্থানীয়রা অটোরিকশাসহ ওই দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের মারধর করেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পটিয়া পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন বলেন, “প্রতিদিনের মতো স্কুল ছুটির পর আমার মেয়ে বাড়িতে ফিরছিল। অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার পর অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ করছি।”

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছলিমা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফুল ইসলাম ওই এলাকার সোনা মিয়া মেম্বারের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ আমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাড়িতে পানির মোটর চালু করতে যান আরিফুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি মারা যান।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পদুয়ায় এক যৃুবক নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।