পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এসব সহায়তা বিতরণ করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩০ প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। এছাড়া দুজনকে সেলাই মেশিন, পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং পাঁচজনকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সকাল ৯টায় এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে হবে। কর্মকর্তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে নাগরিকদের অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
পটিয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব সমস্যা উঠে এসেছে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আইন অমান্য হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
পটিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় সভায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সৌম্য চৌধুরী, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা, সাংবাদিক আবদুল হাকিম রানা, আবেদ আমিরী, রবিউল হোসেন ও ওবায়দুল হক পিপলুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়বসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলা ভূমি অফিস, পটিয়া পৌরসভা ও কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।