নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক, গ্রেফতার ১
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক, গ্রেফতার ১

নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক, গ্রেফতার ১
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কামাল হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেছেন মানিক (২২) নামে অপর এক যুবক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্টে এ অভিযান চালানো হয়।

আটক কামাল হোসেন ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকার মো. ইসলামের ছেলে। পলাতক মানিক একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়পাড়া এলাকার জাহিদ আলমের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হৃদয় পাল ও এএসআই জসিম উদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল বড়ুয়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালায়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি কার্ডে থাকা ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে অটোরিকশায় থাকা কামাল হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর যুবক মানিক গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।" উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ করা অটোরিকশা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।




লামায় জব্দ ড্রেজার ইউএনওর অফিস সহায়কের বাড়িতে, নিলামে হট্টগোল

লামায় জব্দ ড্রেজার ইউএনওর অফিস সহায়কের বাড়িতে, নিলামে হট্টগোল
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযানে জব্দ করা ড্রেজার মেশিন উম্মুক্ত নিলামকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, জব্দকৃত ভাল মানের ড্রেজার মেশিন রাতের আঁধারে সরিয়ে জরাজীর্ণ ও নষ্ট মেশিন রেখে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়কের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
​জানা যায়, গত কয়েক মাসে লামা উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৩টি ড্রেজার মেশিন ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম জব্দ করে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সোমবার (১৪সেপ্টেবর)বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন জব্দকৃত ড্রেজারগুলো উম্মুক্ত নিলামে তোলার সময় নির্ধারণ করে। স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নেন। তবে উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত সরকারি মূল্যের দর না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম স্থগিত করা হয়।

​নিলাম স্থগিতের পাশাপাশি জব্দকৃত মালামাল গায়েব হওয়া নিয়ে নিলাম স্থলে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। নিলামে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম ও মো. আইয়ুব জানান, অভিযানে জব্দ করা বেশ কয়েকটি ভালো ড্রেজার মেশিন নিলামের স্থানে পাওয়া যায়নি। সেগুলোর বদলে রাখা হয়েছে জরাজীর্ণ ও ছোট কয়েকটি অকেজো মেশিন।
অভিযোগ ওঠে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত অফিস সহায়ক মো. সোহেল রাতের আঁধারে ২টি ভালো ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নিজের বাড়িতে রেখে অকেজো দুটি ড্রেজার সেখানে প্রতিস্থাপন করেন।

​নিলাম চলাকালে অকেজো ও ভাঙাচুরা মেশিনগুলোর দাম ৪ লাখ টাকা হাঁকানো হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়ায়। ভালো মেশিনগুলো কোথায় জানতে চাইলে চরম বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরবর্তীতে দুপুরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ইউএনও অফিসের ৫০০ গজের মধ্যে অবস্থিত সোহেলের বাড়ি গিয়ে নিখোঁজ ২টি ড্রেজার মেশিন খুঁজে পান।

এদিকে,​সোহেলের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অমান্য করে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বহাল তবিয়তে পূর্বের কর্মস্থলে অবস্থান করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশনার পরও প্রভাবে খাটিয়ে নিজ চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন বলে স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে।

আরো জানা যায়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও কাজের স্বচ্ছতা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সোহেলকে আলীকদম উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে লামাতেই অবস্থান করছেন। এতে করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সোহেলের একটি ফোনালাপ ও অডিও যোগাযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে দেখা যায়, বিভিন্ন দাপ্তরিক কিংবা সরকারি কাজের মেশিনপত্র কেনাবেচা এবং লেনদেনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে অনেকে তার কাছে জবাবদিহিতা চাইছেন। তবে উক্ত অডিও রেকর্ডে সোহেল রুবেল নামে সাবেক এক কর্মীকে দুবছর আগে মেশিন আমার ছোট ভাইয় কিনেছে বলতে শিখিয়ে দিতে শুনা যায়। 

একদিকে বদলির আদেশ উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে অবস্থান, অন্যদিকে বিভিন্ন দাপ্তরিক লেনদেন নিয়ে বিতর্কের কারণে স্থানীয় প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুশাসনের স্বার্থে অবিলম্বে সরকারি বদলি আদেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, একই ধরনের ড্রেজার মেশিন অনেকের কাছেই থাকতে পারে। সোহেলের বাড়িতে থাকা ড্রেজারটি প্রশাসনের জব্দ করা মেশিন এটি কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল? একটি অসাধু সিন্ডিকেট সরকারি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতেই এসব ইস্যু তৈরি করছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস জানান,লিখিত অভিযোগ বা নিউজ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তারা অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল বিদ্যালয়ের জমি দখল, 'পকেট কমিটি' গঠন, উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের শৌচাগার (টয়লেট) ব্যবহারে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা পড়ালেখা বা শৌচাগার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যার কথা জানায়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে কুমপাড়া এলাকায় করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তরের সময় হাজী সুলতান আহমদ বিদ্যালয়ের দাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামশুল আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামশুল আলম বর্তমানে অসুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ছোট ভাই মো. আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় ১ একর ৫৩ শতাংশ জমি বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলেই রয়েছে। জমির কোনো অংশে স্থানীয় কারও দখল রয়েছে—এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশেও এ ধরনের কোনো বিরোধের চিত্র দেখা যায়নি।

বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দেওয়ার বিষয়ে দাতা সদস্য মো. আলম বিএ জানান, তৎকালীন সভাপতি শফি আলম ও প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী দাতা সদস্যের কাছে জায়গা চাওয়ার পর সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ৩১৫ নম্বর খতিয়ান থেকেও বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল। তিনি নির্বাচিত কমিটিকে 'পকেট কমিটি' আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক মো. নুরুল ইসলাম ও মো. করিম উদ্দিন বলেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু ও শেষ হয় এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।"

দাতা সদস্য মো. আলম বলেন, "আবদুর রহিম বাবুল আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।"

তিনি আরও বলেন, "বিদ্যালয়ের জমি দখল কিংবা কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। নির্বাচনেও কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী বলেন, "বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই সভাপতি পদে পরাজিত আবদুর রহিম বাবুল ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন বলে আমরা মনে করছি।"

তিনি আরও বলেন, "তিনি নিজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক, সেটি আমার বোধগম্য নয়। বিদ্যালয়ের জমি দখল, উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।"

'আমি অপপ্রচার করিনি, গঠনমূলক সমালোচনা করেছি' তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অপপ্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুল।

তিনি বলেন, "আমি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম এবং নিজেই ভোট দিয়েছি। নির্বাচনে আমি তিনটি ভোট পেয়েছি, আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন আটটি ভোট। ভোটে আমি হেরে গিয়েছি—এটা সত্য। তবে আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।"

বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নই। আমি কোনো অপপ্রচার করিনি; গঠনমূলক সমালোচনা করেছি।"

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার যে বক্তব্য, সেগুলো তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তুলে ধরেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

তারা মনে করেন, অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার চালানোর কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।




স্বদেশে ফিরে বম শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা

স্বদেশে ফিরে বম শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের অনিশ্চয়তা, বাস্তুচ্যুত জীবন ও স্বদেশে ফেরার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বান্দরবানের থানচির সীমান্তবর্তী রুমা উপজেলার বকলাই পাড়ায় অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে ফিরেছে বম জনগোষ্ঠীর তিনটি পরিবার। স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার আবেগঘন মুহূর্তে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি, গর্ব এবং আপন ভূমিতে ফিরে আসার গভীর আবেগ।

পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য মুহূর্তটি ছিল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের কেউ কেউ এতটাই অল্প বয়সে দেশ ছেড়েছিল যে বাংলাদেশের কোনো স্মৃতিই তাদের মনে নেই। এমনকি একটি শিশুর জন্মও হয়েছে ভারতের মিজোরামে। তাদের কাছে বাংলাদেশ ছিল শুধু বাবা-মায়ের মুখে শোনা এক স্বদেশ, যার সঙ্গে তাদের শিকড় ও আত্মপরিচয় জড়িয়ে ছিল, কিন্তু যাকে তারা কখনো দেখেনি। তাই জীবনের প্রথমবার নিজের দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার মুহূর্তটি তাদের জন্য হয়ে ওঠে এক অবর্ণনীয় আবেগের অভিজ্ঞতা। যেন বহুদিনের অচেনা এক স্বদেশ হঠাৎ করেই হয়ে উঠল আপন ঠিকানা।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে বম জনগোষ্ঠীর তিনটি পরিবার স্বদেশ ছেড়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেয়। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশায় দেশ ছাড়লেও সেখানে তাদের জীবন ছিল নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘ সময় তারা নিজ জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবনযাপন করে।

পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বম জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন মাধ্যমে মিজোরামে অবস্থানরত পরিবারগুলোর কাছে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও নিরাপদে ফিরে আসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বম সমাজের সহযোগিতায় এ উদ্যোগের ফলে পরিবারগুলো আস্থা ফিরে পেয়ে স্বদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তারা মিজোরাম-হরিণা-রাঙামাটি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের রাঙামাটি থেকে বাকলাইপাড়া সাব-জোনের আওতাধীন এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বাকলাইপাড়া ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আশ্বাস প্রদান করা হয়।

ফিরে আসা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বাকলাইপাড়া সাব-জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে শুকনো রশদ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রি এবং সোলার প্যানেল ও ব্যাটারী প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবন পুনর্গঠনে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।