তৃতীয় বারের মত সাতকানিয়া - লোহাগাড়ার এম.পি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন শাহজাহান চৌধুরী
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

তৃতীয় বারের মত সাতকানিয়া - লোহাগাড়ার এম.পি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন শাহজাহান চৌধুরী

তৃতীয় বারের মত সাতকানিয়া - লোহাগাড়ার এম.পি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন শাহজাহান চৌধুরী
নিজের বাড়ীর কাছে ছমদর পাড়া হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পীকার আলহাজ্জ শাহজাহান চৌধুরী তৃতীয় বারের মত ২৯২, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া - লোহাগাড়া) সংসদীয় আসন হতে এম.পি (মেম্বার অব পার্লামেন্ট) নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সারাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে সাতকানিয়া -লোহাগাড়ার কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শণ করে এবং ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছিল।

বেসরকারীভাবে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই আসনভুক্ত সাতকানিয়ার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ২৫৬২৬৯ জন ভোটারের মধ্যে দাঁড়ি পাল্লায় পড়েছে ৭৯৬১৮ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে ৫৬৬৪২ ভোট। শাহজাহান চৌধুরী এগিয়ে আছেন ২২৯৭৬ ভোটে।
লোহাগাড়ায়ও তিনি এগিয়ে আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভোট চলাকালে সারাদিন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোটারগণ ঈদের আমেজে উৎসবের মেজাজে ভোট প্রদান করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। সেনাবাহিনী ছিল খুবই সতর্ক এবং সক্রিয়। তড়িৎ তৎপরতা ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সাতকানিয়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং লোহাগাড়া উপজেলার সবগুলো (নয়টি) ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসন গঠিত। এ আসনে শাহজাহান চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্ধীতা করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের শরিফুল আলম।
শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া - লোহাগাড়া আসন হতে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে বিপুল ভোটে এম.পি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রার্থী হননি। সেবার জিতেছিলেন একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম। এরপরের নির্বাচনগুলোতে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। দীর্ঘ আঠার বছর পর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাঁধাহীন নির্বাচনে ভোটারগণ ঈদের আমেজে ভোটোৎসবে মেতে ওঠেছিল।
তবে হ্যাঁ ভোট বেশী পড়লেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ না ভোটও প্রদান করা হয়েছে।
 




লোহাগাড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাগবিতণ্ডা, চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা

লোহাগাড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাগবিতণ্ডা, চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ার আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক আইনজীবীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী উপল কান্তি নাথ (৩৭) মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি দণ্ডবিধির ৩৮৫/৫০৬(২) ধারায় এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে লোহাগাড়া থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী আইনজীবী উপল কান্তি নাথ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তার পিতার ক্রয়কৃত সম্পত্তির সাব-কবলা রেজিস্ট্রি করতে আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। এ সময় মো. আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মুন্সী (৫০) নিজেকে দলিল লেখক সমিতির নেতা পরিচয় দিয়ে সমিতির আওতার বাইরে কেউ রেজিস্ট্রি করলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার আইন পেশা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। 

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাশেম মুন্সী মূলত একজন মুন্সীর সহকারী। তার এমন আচরণে অফিসের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। একজন আইনজীবীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

অভিযুক্ত আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মুন্সী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। টিপসই নেওয়ার সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। 

লোহাগাড়া দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে একজন আইনজীবীকে হেনস্তা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া অভিযুক্ত কাশেমের দলিল লেখকের সনদও নেই বলে তিনি দাবি করেন। 

আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান বলেন, আইনজীবী একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসেছিলেন। টিপসই নেওয়ার সময় এক মুন্সীর সহকারী কাশেমের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা মর্মাহত। 

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন,  আইনজীবীকে হেনস্থা ও চাঁদাদাবীর অভিযোগে আদালত থেকে থানায় কোন কাগজপত্র আসনি। যদি আসে আদালতের নির্দশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় লোহাগাড়ায় আইনজীবী ও দলিল লেখক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
 




সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘদিন অবহেলিত চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১৩০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই বরাদ্দ দেন। 
মূলত দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং নতুন সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক  মো.শহিদুজজামান খান স্বাক্ষরিত একপত্রে চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রেরিত এক পত্রে এই তথ্য জানানো হয়। এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি  বিকেলে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কাজ শুরু করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, যেসব সড়ক ও অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনাও তিনি সংশ্লিষ্টদের দিয়েছেন।
বৈঠকে এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেব, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ, সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা, বাজেট বণ্টন এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এদিকে একইদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন।
এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর পাশাপাশি লোহাগাড়া জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম নোমানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা এবং লোহাগাড়া উপজেলা সমন্বয়ে চট্টগ্রাম-১৫ সংসদীয় আসন গঠিত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকাবাসী আশা করছেন, ঘোষিত এই বরাদ্দ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।




লোহাগাড়ায় ঝাড়ু হাতে মাঠে নবনির্বাচিত এমপি শাহজাহান চৌধুরী

লোহাগাড়ায় ঝাড়ু হাতে মাঠে নবনির্বাচিত এমপি শাহজাহান চৌধুরী
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ার বটতলী শহরে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় লোহাগাড়া বটতলী স্টেশন এলাকায় বটতলী শহর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত “পরিচ্ছন্ন অভিযান” কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের পরপরই তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সড়ক পরিষ্কার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের আহবানে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি করতে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে।

তিনি আরও বলেন,আমরা চাই লোহাগাড়া ও সাতকানিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব এলাকায় পরিণত করতে। এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী ও বটতলী শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জালাল আহমদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বটতলি শহর পরিচালনা কমিটির আহবায়ক কাজী নরুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর বটতলি শহর শাখার সেক্রেটারি ডাক্তার আক্তার আহমদ, মাওলানা আকতারুল কামালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দলীয় কর্মীরা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা বটতলী স্টেশন সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।