ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তাগিদ আইএমএফের
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তাগিদ আইএমএফের

ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তাগিদ আইএমএফের
ছবি সংগৃহীত।

বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ঋণের চাপ সামাল দিতে কর ব্যবস্থার সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন- আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। ব্রিফিংয়ে যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।

আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ অনেক সময় দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। ফলে সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।


কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ
উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব আয় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর প্রশাসন সহজ ও কার্যকর করা গেলে কর আদায়ের ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর পরিপালন সহজ করা হলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এক্ষেত্রে মিশরের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার সংস্কার ও কর অব্যাহতি কমানোর উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার, জ্বালানি কর ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ এবং ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়াকে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আইএমএফের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, কিছু দেশে কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি বেশি থাকা দেশগুলোর জন্য করের আওতা বাড়ানো এবং অকার্যকর কর সুবিধা পর্যালোচনা করা জরুরি। তবে এসব পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে।


ভর্তুকি প্রত্যাহারে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ। সংস্থাটির বিশ্লেষণে মরক্কোর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশটি সর্বজনীন ভর্তুকি ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ভর্তুকি প্রত্যাহার সব ক্ষেত্রে সহজ সমাধান নয়। নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ পরিশোধের বড় ব্যয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশটির রাজস্বের প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হওয়ার বিষয়টিও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।

ইথিওপিয়াও আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি সংস্কারের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তবে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বাড়তি চাপ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা ও জরুরি তহবিল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের পরও জ্যামাইকার আগাম অর্থনৈতিক প্রস্তুতিকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত থাকলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও জনসেবার মতো খাতে বরাদ্দ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বয়স্ক জনসংখ্যার চাপে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার বার্ধক্য পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কর ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে গেলে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে, করদাতার সংখ্যা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এ পরিস্থিতিতে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি।

ঋণ সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্ব
ঋণ সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা, ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে আইএমএফ। এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা হিসেবে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।


উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। এজন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের সুপারিশ অনুযায়ী, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শুধু ব্যয় কমানো বা ভর্তুকি প্রত্যাহার যথেষ্ট নয়; বরং রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।




চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের দিকে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আলোচনায় চীনের সঙ্গে যে-সব বিনিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলোতে ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বভৌম ঋণ ও অন্যান্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দু’দেশের অংশীদারত্ব জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

চীনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা

এদিকে, আজ (বুধবার) অপর এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।




বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরও হতাশার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় যা ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর আগে, এডিবি ৪ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। কম আয়ের মানুষের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সহসাই জিনিসপত্রের দামও কমবে না। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব‍্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষ করে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বৈঠক করেছেন আইএমএফের নিরাপত্তা পরিচালক উরজিত প‍্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ের্দের সঙ্গে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস) এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্ব অর্থনীতি টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। তবে, এই সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ । মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিনিয়োগ সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

এছাড়া, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে  পৌঁছাতে পারে এবং এরপর ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান-যার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন করে তীব্রতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত প্রত্যাশাগুলোর পুনর্বিবেচনা। তবে, ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকও রয়েছে। যদি এআই  বিনিয়োগ দীর্ঘস্থায়ী হয়, উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়ে, বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


আইএমএফ জানায়,নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং বাণিজ্য ও সহযোগিতার পথগুলো উন্মুক্ত রাখা।




বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের তৈরি নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। এর সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটি একমত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। এ বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এখনকার আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ যেসব কাজ করবে এবং যেসব সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এই আলোচনার মাধ্যমে। আলোচনা ঢাকায়ও চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি তৈরি করা দরকার, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি ও মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। কীভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক কী হবে, তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

মূল্যস্ফীতি-জিডিপি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।

সরকারের বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আইএমএফের সাইড ইভেন্টে আলোচনা হয়েছে৷ এই ইভেন্টে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইড ইভেন্টে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে আইএমএফের গবেষণা বিভাগের পরিচালক সিলভিনা টেনরেইরোসহ চারজন গবেষক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও)।

এর আগে সকালে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। একই সময়ে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছেন।

তবে, বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা সহায়তা করছে।

আইএমএফের মতে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।