ট্রফি ছাড়াই শুরু হলো বিপিএল, উদ্বোধনী দিনেও অব্যবস্থাপনার ছাপ
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

ট্রফি ছাড়াই শুরু হলো বিপিএল, উদ্বোধনী দিনেও অব্যবস্থাপনার ছাপ

ট্রফি ছাড়াই শুরু হলো বিপিএল, উদ্বোধনী দিনেও অব্যবস্থাপনার ছাপ
ছবি সংগৃহীত।

নানা বিতর্ক ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে এই টুর্নামেন্টের। তবে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ট্রফি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর রেওয়াজ থাকলেও বিপিএলে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র; বিদেশ থেকে ট্রফি এসে না পৌঁছানোয় ট্রফি ছাড়াই মাঠে গড়িয়েছে খেলা।

ট্রফি জটিলতার কারণে টুর্নামেন্টের আগের দিন প্রথাগত ‘ক্যাপ্টেনস ডে’ বা অধিনায়কদের ফটোসেশনও আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত ট্রফিটি সময়মতো কাস্টমস ছাড়পত্র না পাওয়ায় উদ্বোধনী দিনে তা মাঠে আনা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন খেলোয়াড় ও দর্শকরা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও প্রথম ম্যাচের পর ৪৫ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রেখেছে বিসিবি, যেখানে ফুয়াদ মুক্তাদিরের কোরিওগ্রাফিতে শিল্পীরা পারফর্ম করবেন।

এবারের আসর শুরুর আগে থেকেই মাঠের বাইরের নানা ইস্যুতে সমালোচনায় রয়েছে বিসিবি। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিসিবি নিজেরাই দলটির দায়িত্ব নেয়। অন্যদিকে, নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’-এ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে অনুশীলন ছেড়ে গিয়েছিলেন দুই কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও তালহা জুবায়ের। পরবর্তীতে বিসিবির মধ্যস্থতায় তারা পুনরায় দলে যোগ দেন।

সিলেট পর্বের উদ্বোধনী দিনে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে রাজশাহী ও সিলেট। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। ধারাভাষ্যকার হিসেবে এবারের আসরে ওয়াকার ইউনুস, ড্যানি মরিসন, ড্যারেন গফ এবং রমিজ রাজার মতো তারকারা উপস্থিত থাকছেন।




নিরাপত্তা ইস্যুতে অনড় বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড

নিরাপত্তা ইস্যুতে অনড় বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড
ছবি সংগৃহীত।

 আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে না বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ অনড় থাকায় তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের প্রাথমিক গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। মূলত ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিসিবি সেখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি বাংলাদেশকে তাদের অবস্থান পর্যালোচনার জন্য সময় দিলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকে বাংলাদেশ।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি নেই। এ কারণে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বাংলাদেশের প্রস্তাবটিও প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি। এর ফলে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বেছে নেওয়া হয়।

নতুন সূচি অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড গ্রুপ পর্বে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭ ফেব্রুয়ারি), ইতালি (৯ ফেব্রুয়ারি) ও ইংল্যান্ডের (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিপক্ষে খেলবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে স্কটিশরা।




বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান!

বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান!
ছবি সংগৃহীত।

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চলছে অনিশ্চয়তা। ২১ তারিখ চূড়ান্ত জানা যাবে এ ব্যাপারে। এর মাঝেই খবর এসেছে, পাকিস্তান দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান অবজারভার এই খবরটি জানিয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করা হবে।

এছাড়া, পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করে সেটির বিকল্প পরিকল্পনা জমা দিতেও টিম ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন পাকিস্তান ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে সফর না করার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

পাকিস্তান বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক ও ন্যায্য বলে অভিহিত করেছে।
সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ ইস্যুর কোনো সমাধান না হলে বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান।




ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি: ভেন্যু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব

ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি: ভেন্যু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ শনিবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বোর্ড সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে দল ভারতে পাঠাবে না। পরিবর্তে লজিস্টিক জটিলতা কমিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।

বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই সভায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের শীর্ষ চার পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। আইসিসির পক্ষে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সশরীরে এবং ইভেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন্সের জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনা দুবাই থেকে অনলাইনে যুক্ত হন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি কেন ভারতে খেলতে যেতে ইচ্ছুক নয়, তার পেছনে সরকারের উদ্বেগ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়, সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আইসিসির প্রতিনিধি দল বিসিবির এই অবস্থান গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভাকে 'গঠনমূলক ও পেশাদার' হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, লজিস্টিক ও আয়োজন-সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশকে ভিন্ন একটি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে মূল লক্ষ্য হিসেবে বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এর আগে ভার্চুয়াল বৈঠকেও বিসিবি একই অবস্থান জানিয়েছিল। আজকের সভায় বিসিবির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে।