টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ উদ্ধার
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ উদ্ধার

টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

দুই বান্ধবী গিয়েছিলেন সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে। আর রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা। ভোরের সেই সামান্য সময়ের ব্যবধানই হয়ে উঠল জীবনের শেষ বিচ্ছেদ। দুই বান্ধবী ফিরে এলেও আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট থেকে আর ফেরা হয়নি মুক্তার।

টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে তা উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় দেহাবশেষ অনেকটা কঙ্কালসদৃশ হয়ে পড়েছিল। গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

এ নিয়ে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য জানায়। তবে ওই ১০ জনের মধ্যে ছিলেন না নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা মুক্তা। তাদের নমুনার সঙ্গে মুক্তার স্বজনদের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় তার সন্ধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এরপর মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার অনানুষ্ঠানিক তথ্য থেকে একজনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

যেভাবে স্ত্রী মুক্তাকে চিনলেন স্বামী ফয়সাল

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন নাসরিন আক্তার মুক্তা। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তারা উঠেছিলেন শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে।

মুক্তার স্বামী ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সাল দেওয়ান বলেন , অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হন। মুক্তা তখন রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেনি মুক্তা।

এরপর থেকে তার স্বজনদের অপেক্ষা, খোঁজাখুঁজি আর অনিশ্চয়তা এবং একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার সন্ধান মিলছিল না বলে জানান তিনি।  অবশেষে ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া তার দেহাবশেষে থাকা গলার লকেট দেখে ফয়সাল সেটি মুক্তার মরদেহ বলে নিশ্চিত করেন।

স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ১০ জনের মরদেহ

মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারের দিনই ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া আগের ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাদের একটি পরিবারের চারজন এবং অন্য পরিবারের ছয়জন।

চার সদস্যের পরিবারটির সদস্যরা হলেন- শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহতরা হলেন- মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষা করে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে। স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের পর তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।




স্টার লাইন পরিবহনে পাওয়া গেল ১৮ কেজি গাঁজা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

স্টার লাইন পরিবহনে পাওয়া গেল ১৮ কেজি গাঁজা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার শহরতলির লিংক রোডে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বান্দরবান সদরের কালাঘাটা এলাকার সুলতান আহমদ (৬৪), উখিয়া উপজেলার থাইংখালী জামতলী এলাকার রাজিয়া বেগম (২৮) এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আড়কাইম এলাকার নুরুল আমিন (৫০)। এ সময় মাদক কারবারে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঝিলংজা ইউনিয়নের উত্তর মুহুরীপাড়া রেলক্রসিং-সংলগ্ন আলম মোটরসের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাসে এ তল্লাশি চালানো হয়।

এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান চালায় ব্যাটালিয়নের একটি দল। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাস থেকে ১৮ কেজি গাঁজা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের তিন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্ধারকৃত গাঁজা ও অন্যান্য আলামতসহ তাঁদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




বড়বাজারের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আলোচনা সভা, শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সিদ্ধান্ত

বড়বাজারের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আলোচনা সভা, শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সিদ্ধান্ত
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার শহরের বড় বাজারের বিরাজমান নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া হয়েছে নানা কঠোর সিদ্ধান্ত।

২৫ অক্টোবর রাতে অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের অধিকার রক্ষায় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করে বক্তব্য রাখেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় পৌর কর্তৃপক্ষের কিছু অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথাও জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

বড় বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাশেম সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল, কক্সবাজার দোকান মালিক ফোরামের সভাপতি আবু জাফর ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল গফুর, ফেডারেশনের আজীবন সদস্য সাংবাদিক ইমাম খাইর।

তারা বলেন, বাজারের সকল স্তরের ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায় কোন দাবি মেনে নেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থহানি হয় এমন কোন সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বড়বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সহ সভাপতি এহেছান উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, সংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রহিম উল্লাহ, সদস্য নুরুল ইসলাম, মাংস ব্যবসায়ী রাজু, নুরুল আলম, পান ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আলম, ছাগল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, মুরগি ব্যবসায়ী নাসির, সুপারি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, শফিউল আলম।

তারা বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন বড় বাজারে যুগযুগ ধরে পৈত্রিকভাবে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। বিশেষ করে পান সুপারি, তরি তরকারি, মাছ মাংস, মুরগি, গরু-ছাগল, শুটকি, শাক বিক্রেতাসহ অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন চলার একমাত্র মাধ্যম এই বাজার। পৌরসভার নিয়ম মেনে তারা দাদার আমল থেকে এখানে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০২৩ সালে বহুতল ভবন করার পরিকল্পনার কথা বলে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে বলেন তৎকালীন পৌর মেয়র। সেই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, মার্কেট নির্মিত হলে যার দোকান তাকে প্রাপ্য মতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মার্কেট নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দোকান বরাদ্দ পেতে প্রতি বর্গফুটে অস্বাভাবিক টাকা দাবি করা হচ্ছে। যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে বহন করা মোটেও সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষই এই মার্কেট নির্মাণ করছে প্রচার পায়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হলে তারা জানতে পারে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই মার্কেট করা হয়েছে। যার কোন রেকর্ডপত্র পৌরসভায় সংরক্ষিত নাই বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, পৌরসভার জায়গায় নির্মিত মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পেতে তৃতীয় পক্ষকে কেন টাকা দিতে হবে? ইতোপূর্বে পৌরসভার অন্যান্য দোকানগুলো যেমন মাছের শেড, তরকারির শেড পৌরসভার অর্থায়নে নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, একই নিয়মে এই মার্কেটে দোকান পাওয়ার দাবি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারের নানা সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করেছেন। দাবির কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করেছেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি বিরাজমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

নিয়ম বহির্ভূত হাটবাজারের কারণে বাড়ছে যানজট। নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য। পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পর্যটনবান্ধব বাজার গড়ে তোলতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেও যাদেরকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে তাদের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বড় বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা।




কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। 
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মন্ত্রী কেন্দ্রের পৌঁছলে উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর নেতৃত্বে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে কেন্দ্রের নিবাসী শিশুরা। এরপরই তিনি শিশুদের তৈরিকৃত আলোর পথযাত্রী শিরোনামে দেয়ালিকার চর্তুবিংশ সংখ্যা উন্মোচন করেন। অতঃপর সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রের সার্বিক সেবা কার্যক্রম এর প্রবাহ চিত্র উপস্থাপন করেন। কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার এর উপস্থাপনায় ও নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন এর কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যেদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ। আয়োজনে নিবাসী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উশু ডেমো প্রদর্শনী উপভোগ করে ভূয়সী প্রসংশা করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে শিশুরা মন্ত্রীর হাতে তাদের তৈরিকৃত পুঁতির তৈরি তাজমহল শোপিস উপহার দেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় বিশেষ সন্মাননা ক্রেস্ট। এছাড়া ও মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ,আবাসন ব্যবস্থা অফিস ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং কেন্দ্রের ছাদবাগানের জন্য আমলকির চারা রোপণ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এই পরিদর্শন কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রমকে অধিক সমৃদ্ধ ও বেগবান করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি-মর্মে মন্তব্য করেন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার।

এ সময় চট্রগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইফুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী, প্রিন্টেড ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, বিপন্ন,পথ শিশুদের সমাজের মূলস্রোত ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র ,মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন, মনোসামাজিক সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষন চিত্ত বিনোদন, চাকুরীতে নিযুক্তকরণ, পুনর্বাসন/পুনএকত্রীকরণ ইত্যাদি নানাবিধ সেবা প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।