ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ছোটফরিংগা সীমান্ত এলাকা থেকে এসব শাড়ি জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রামগড় ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল মীরসরাই উপজেলার ছোটফরিংগা বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০৩/২-আরবি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াটিলা মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় পাহাড়ি এলাকার উঁচু-নিচু স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক সিজার মূল্য ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা ও সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।




লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী, খোঁজ মেলেনি ৩ দিনেও

লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী, খোঁজ মেলেনি ৩ দিনেও
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো— লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া সুলতানা ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি আক্তার একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।

পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই তাঁর বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা কাগজপত্র নিতে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ তিন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাদের সন্ধান বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, গত মাসের শেষ দিক থেকে ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্‌ঘাটন ও উদ্ধার অভিযানে পুলিশ কাজ করছে।




শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একশত পরিবারের মাঝে লামায় উপহারসামগ্রী বিতরণ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একশত পরিবারের মাঝে লামায় উপহারসামগ্রী বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সনাতন সম্প্রদায়ের একশত পরিবারের মাঝে বস্ত্র ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) লামা রিপোর্টার্স ক্লাব হলরুমে এই উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একশত সনাতন ধর্মাবলম্বীর হাতে শুভেচ্ছা উপহার (শাড়ি ও ফতুয়া) তুলে দেন লামা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও পৌরসভা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান দাশ। আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এস কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির গীতা শিক্ষা নিকেতন পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সদস্য বিপ্লব দাস, চুমকি বণিক, মিন্টু কর্মকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সকল ধর্মাবলম্বীর সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানান।

উপহারসামগ্রী বিতরণ শেষে আগামী লামা পৌরসভা নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও পৌরসভা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও লামা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পূর্বেও আপনাদের পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করে যাব।”




আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার

আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ডাম্পারচালকের কাছে মাটি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, তা জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. ইলিয়াছ সিকদারের (৩০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় মোবাইল কোর্ট তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীকদম সদর ইউনিয়নের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই গণমাধ্যমকর্মী হলেন দৈনিক সাঙ্গুর আলীকদম প্রতিনিধি আরাফাতুল ইসলাম (২৩) এবং দৈনিক বাংলাধারার আলীকদম প্রতিনিধি মো. আতাউল্লাহ (২৭)। তাঁরা দুজনই আলীকদম সদর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি ডাম্পারে করে পাহাড় কেটে আনা মাটি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় তাঁরা গাড়িটি থামিয়ে চালকের কাছে মাটির উৎস সম্পর্কে জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ইলিয়াছ সিকদার চালকদের সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মো. ইলিয়াস মিয়া (৪২) ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জনস্বার্থে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েই তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়। শুধু তথ্য সংগ্রহে বাধা নয়, তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে ইউএনওর নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইলিয়াছ সিকদারকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্টের নথি অনুযায়ী, ৬৬/২০২৬ নম্বর মামলায় মো. ইলিয়াছ সিকদারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম। নথিতে প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরাফাতুল ইসলাম ও মো. আতাউল্লাহ বাদী হয়ে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে আলীকদম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিয়েল চাকমা বলেন, “ঘটনাটি রাতে ঘটলেও লিখিত অভিযোগ সকালে পেয়েছি। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

প্রশ্ন উঠেছে, পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য জানতে চাওয়াই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।