আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার

বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ডাম্পারচালকের কাছে মাটি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, তা জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. ইলিয়াছ সিকদারের (৩০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় মোবাইল কোর্ট তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীকদম সদর ইউনিয়নের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই গণমাধ্যমকর্মী হলেন দৈনিক সাঙ্গুর আলীকদম প্রতিনিধি আরাফাতুল ইসলাম (২৩) এবং দৈনিক বাংলাধারার আলীকদম প্রতিনিধি মো. আতাউল্লাহ (২৭)। তাঁরা দুজনই আলীকদম সদর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি ডাম্পারে করে পাহাড় কেটে আনা মাটি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় তাঁরা গাড়িটি থামিয়ে চালকের কাছে মাটির উৎস সম্পর্কে জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ইলিয়াছ সিকদার চালকদের সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মো. ইলিয়াস মিয়া (৪২) ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, জনস্বার্থে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েই তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়। শুধু তথ্য সংগ্রহে বাধা নয়, তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে ইউএনওর নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইলিয়াছ সিকদারকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্টের নথি অনুযায়ী, ৬৬/২০২৬ নম্বর মামলায় মো. ইলিয়াছ সিকদারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম। নথিতে প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরাফাতুল ইসলাম ও মো. আতাউল্লাহ বাদী হয়ে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে আলীকদম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিয়েল চাকমা বলেন, “ঘটনাটি রাতে ঘটলেও লিখিত অভিযোগ সকালে পেয়েছি। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
প্রশ্ন উঠেছে, পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য জানতে চাওয়াই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।









