আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার

আলীকদমে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ যুবদল নেতার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ডাম্পারচালকের কাছে মাটি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, তা জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. ইলিয়াছ সিকদারের (৩০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় মোবাইল কোর্ট তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীকদম সদর ইউনিয়নের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই গণমাধ্যমকর্মী হলেন দৈনিক সাঙ্গুর আলীকদম প্রতিনিধি আরাফাতুল ইসলাম (২৩) এবং দৈনিক বাংলাধারার আলীকদম প্রতিনিধি মো. আতাউল্লাহ (২৭)। তাঁরা দুজনই আলীকদম সদর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি ডাম্পারে করে পাহাড় কেটে আনা মাটি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় তাঁরা গাড়িটি থামিয়ে চালকের কাছে মাটির উৎস সম্পর্কে জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ইলিয়াছ সিকদার চালকদের সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মো. ইলিয়াস মিয়া (৪২) ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জনস্বার্থে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েই তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়। শুধু তথ্য সংগ্রহে বাধা নয়, তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে ইউএনওর নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইলিয়াছ সিকদারকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্টের নথি অনুযায়ী, ৬৬/২০২৬ নম্বর মামলায় মো. ইলিয়াছ সিকদারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম। নথিতে প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরাফাতুল ইসলাম ও মো. আতাউল্লাহ বাদী হয়ে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের গাড়িচাপা দেওয়ার নির্দেশ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে আলীকদম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিয়েল চাকমা বলেন, “ঘটনাটি রাতে ঘটলেও লিখিত অভিযোগ সকালে পেয়েছি। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

প্রশ্ন উঠেছে, পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের তথ্য জানতে চাওয়াই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।




শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে একটি বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে লক্ষ্মীছড়ি জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম।

সভায় ৩ আনসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পুরোহিত ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দ, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, লক্ষ্মীছড়ি, দুল্যাতলী ও বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউনিয়ন প্রশাসনের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, হেডম্যান, কারবারি এবং সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ১৭ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন, পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় পূজা চলাকালীন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জোন অধিনায়ক বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সকল ধর্মের উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর।




লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ ​অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার  (১২ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

​অবহিতকরণ সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত পরিবারকে কীভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিকট সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়িন্টাইলে—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত বিভক্ত করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ বা তার কম স্কোরপ্রাপ্ত নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়িন্টাইলভুক্ত যোগ্য নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাবেন।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এ কার্যক্রমের জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকা পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

লামা উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডের লামা পৌরসভার মোট সম্ভাব্য খানা ২৫,২১৯ টি। লামা উপজেলার মোট সম্ভাব্য খানার সংখ্যা - ২৮,২৮৫ টি।ইউনিয়ন সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ খানা ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নে, খানার সংখ্যা-৮৫৫১টি। পৌরসভার ওয়ার্ড  সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ খানা ৭নং ওয়ার্ড, খানার সংখ্যা   ৮৩৮টি।  ফাসিয়াখালিতে বর্তমানে ১১শ জন ভাতা পাচ্ছেন।  লামা উপজেলায় মোট তথ্য সংগ্রহকারী ৪৩জন এবং সুপার ভাইজার ৪জন।লামা পৌরসভায় মোট তথ্য সংগ্রহকারী ১২জন এবং সুপার ভাইজার ১জন।১ম পর্যায়ে জরিপ চলবে ৩টি ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে: সদর ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে।সরই ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে।রূপসী পাড়া ইউনিয়নের ১নং ১, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে এবং  পৌরসভার ১নং, ৬ নং ও ৭নং ওয়ার্ডে জরিপ চলবে। 
 




ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছেন মুফতি সাদেকী

ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়াচ্ছেন মুফতি সাদেকী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইসলামের সঠিক দাওয়াত, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ আলেম মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী।  প্রথাগত ধর্মীয় পাঠদানের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সুপথে পরিচালিত করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তিনি ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।  

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি ও বিচারকদের তত্ত্বাবধানে  নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজিত হয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এই পরীক্ষায় সকল প্রার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। পরবর্তীতে ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লামা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের শীর্ষস্থানীয় কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই মেধাবী আলেম।দাওরায়ে হাদিসে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামিয়া জিরি থেকে কৃতিত্বের সাথে (স্টার মার্ক) পাস করেন। রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় (স্টার মার্ক) বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করেন। একই গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) থেকে ফতোয়া ও ইসলামী আইনে (স্টার মার্ক) বিশেষায়িত ডিগ্রি লাভ করেন। জামিয়া জিরি পটিয়া থেকে ক্বিরাআতে মুজাওওয়াদ কোর্সে (স্টার মার্ক) উত্তীর্ণ হন। এছাড়া ইসলামিক অর্থনীতিতেও বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছেন।

লামায় যোগদানের আগে তিনি দেশের বিভিন্ন নামকরা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।​শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সাভার, ঢাকা।​শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস আল আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর সদর।​পরিচালক (মুহতামিম) জামিয়া দারুস সুন্নাহ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।

​ইসলামী শিক্ষাঙ্গনে তাঁর রচিত ও গবেষণামূলক একাধিক বই ও থিসিস ইতোমধ্যে সুধী মহলে সমাদৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:​আহকামুল ফরায়েজ (ইসলামী উত্তরাধিকার আইন ও বণ্টন সংক্রান্ত) ​শিরকায়ে বাতেলা (ব্যবসায়িক অবৈধ চুক্তি ও সমকালীন অর্থনীতি বিষয়ক) সালাতুল হানাফিয়া (হানাফি মাযহাবের আলোকে সালাতের দলিল ভিত্তিক বিশ্লেষণ)।

​লামা উপজেলা মডেল মসজিদে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তরুণরা যাতে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত খুতবা ও সামাজিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে আসছেন।তার তথ্যবহুল তাফসীর আলোচনা , শ্রুতি মধুর উপস্থাপনা, স্বললিত কন্ঠে নামাজে কুরআনের তেলাওয়াত যে কাউকে বশীভূত করে তোলে। নিয়মিত তার আহ্বান ও তিলাওয়াত শুনে অনেকে নিয়মিত মুসল্লিতে পরিণত হয়। সবার সাথে হাস্যজ্জ্বল সালাম কালাম ও আলাপ-আলোচনার কারণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে। নিয়মিত মুসল্লিরা বলেন, হুজুরের পেছনে নামাজ পড়লে অন্তর অনেক প্রশান্তি লাভ করে।

মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী বলেন, ইসলামের শান্তির বাণী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা,মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং মানবকল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশায়ী হোক আমার পথ চলার মূল প্রেরণা। মুফতি ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ সাদেকীর ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের এই প্রচেষ্টা লামা অঞ্চলে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, নৈতিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার অন্তর্গত ৩ নং কৈয়ার বিল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড দঃ খিলছাদক গ্রামে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী জন্ম গ্রহণ করেন। জনাব আব্বাস আহমদ এর ৪ ছেলে ৫ মেয়ের মধ্যে তিনি ৭ম।সকলেই ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।