চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ভোট অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও প্রত্যাহারের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে অনিয়ম ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীপক্ষ প্রশাসনিক পক্ষপাত, জাল ভোট ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় লোহাগাড়ার গ্র্যান্ড মাশাবী রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আসহাব উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে লাঠিচার্জ করানো হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে কালো বোরকা পরিহিত নারীদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাল ভোট দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ভোট গণনার সময় ধানের শীষের পক্ষে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রায় ২০ জন ছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দলের লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ফলাফল ভিন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, শেফায়ত উল্লাহ চক্ষু ও ফৌজুল কবির ফজলু প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল কবির, জসিম উদ্দিন আব্দুল্লাহ, আবু সেলিম চৌধুরী, এটিএম জাহেদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা দিদারুল হক চৌধুরী ও লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমদ প্রমুখ। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








