চকরিয়ায় শতাধিক পরিবারের চলাচলের পথে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতালপাড়ায় সিঙ্গার শোরুমের পাশে চলাচলের পথ জবরদখলের চেষ্টা এবং প্রতিবাদ করায় এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর এবং বসতঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগকারী ছেনুয়ারা বেগম (৪১) চকরিয়া পৌরসভার হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার বিষয়ে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মো. সাকিব (২৫), জয়নাল আবেদীন (৫০), এম. মোবারক (২২), মো. এহেছান (২৪) ও ফোরকানুল ইসলামসহ (৪০) মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ছেনুয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁদের বসতঘরের পাশের চলাচলের পথ দিয়ে এলাকার প্রায় ১০০ পরিবারের লোকজন যাতায়াত করেন। অভিযুক্তরা ওই পথের পাশে ঘর নির্মাণ ও পাকা দালান তৈরির উদ্যোগ নিলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ ও বাক্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশি অস্ত্র, দা, লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অভিযোগকারী, তাঁর ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। হামলার সময় বসতঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, "আমার জায়গায় আমি স্থাপনা তৈরি করছি। উল্টো তারা আমার ঘরে হামলা চালিয়েছে।"
অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল রাজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










