কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন, নিহত বেড়ে ১০
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন, নিহত বেড়ে ১০

কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন, নিহত বেড়ে ১০
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে ইনানি বিচের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।  এর আগে ছয় জন নিহতের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। নিহতরা সবাই পর্যটক, সেখানে তারা ঘুরতে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য এ তথ্য জানান।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জন হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় আহতদের প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ।

আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাকিদের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কক্সবাজারের ইনানী বিচের টুপ টুপ রিসোর্টে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পরে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৪ জন মারা যান। 




চকরিয়ায় শতাধিক পরিবারের চলাচলের পথে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

চকরিয়ায় শতাধিক পরিবারের চলাচলের পথে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতালপাড়ায় সিঙ্গার শোরুমের পাশে চলাচলের পথ জবরদখলের চেষ্টা এবং প্রতিবাদ করায় এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর এবং বসতঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

অভিযোগকারী ছেনুয়ারা বেগম (৪১) চকরিয়া পৌরসভার হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার বিষয়ে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মো. সাকিব (২৫), জয়নাল আবেদীন (৫০), এম. মোবারক (২২), মো. এহেছান (২৪) ও ফোরকানুল ইসলামসহ (৪০) মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ছেনুয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁদের বসতঘরের পাশের চলাচলের পথ দিয়ে এলাকার প্রায় ১০০ পরিবারের লোকজন যাতায়াত করেন। অভিযুক্তরা ওই পথের পাশে ঘর নির্মাণ ও পাকা দালান তৈরির উদ্যোগ নিলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ ও বাক্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশি অস্ত্র, দা, লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অভিযোগকারী, তাঁর ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। হামলার সময় বসতঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, "আমার জায়গায় আমি স্থাপনা তৈরি করছি। উল্টো তারা আমার ঘরে হামলা চালিয়েছে।"

অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল রাজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সন্তানের খোঁজে পর্যটকের আর্তনাদ: ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’

সন্তানের খোঁজে পর্যটকের আর্তনাদ: ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’
ছবি সংগৃহীত।

উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের সারা শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। সে কারণে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীকে কান্নার সুরে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’ ওই নারী পর্যটক পূজার ছুটিতে তাঁর পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছিলেন। তিনি এক সাংবাদিকের বোন বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাইফকে বারবার ডেকে বলছেন, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’ তবে সাইফ তাঁর সম্পর্কে কী হন, কিংবা সে বেঁচে আছে কি না, তা জানা যায়নি।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।”

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।




কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৬ পর্যটকের প্রাণহানি

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৬ পর্যটকের প্রাণহানি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচগামী সড়কের পাশে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার এ ঘটনায় আরও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পায় উখিয়া ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকে। পরে বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মো. রকিবুল হাসান প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে উদ্ধারকাজ চলাকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়ায়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার আসিফ আলী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে রিসোর্টের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় কী—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়েছেন। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।