দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বুঝে নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। আগামী ১৫ বছরের জন্য পরিচালিত এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করা না হলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ১৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরকে এককালীন ৫ কোটি ডলার প্রদানসহ বছরে অন্তত ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে দেশীয় অপারেটরদের অধীনেই এই টার্মিনালে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা এই চুক্তির বিবরণ জনসমক্ষে না আসায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালটিতে একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। টানা আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, "এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে করা গোপন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আমরা সরকারকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিয়েছি; দাবি না মানলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে যাব।"
চুক্তির বিষয়ে অন্ধকারে থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক। তিনি বলেন, "বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তির লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত ছিল। তবে আমরা একেবারে অন্ধকারে রয়েছি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবা দ্রুত হলে ভালো, কিন্তু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে কেন চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করা হলো না?"
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ও বিদেশি সংস্থাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে শ্রমিক দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন দফায় দফায় কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালনা করে আসছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।









