চুনতির সীরত ময়দানে মুসল্লিদের ঢল, শেষ রাতে আখেরি মোনাজাত
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

চুনতির সীরত ময়দানে মুসল্লিদের ঢল, শেষ রাতে আখেরি মোনাজাত

চুনতির সীরত ময়দানে মুসল্লিদের ঢল, শেষ রাতে আখেরি মোনাজাত
ছবি সংগৃহীত।

ঐতিহাসিক ৫৬তম চুনতির ১৯ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সীরত ময়দানে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার মুসল্লি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা চুনতি শাহ মঞ্জিল সীরত ময়দানে আসতে শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহফিলস্থল ও আশপাশের এলাকায় মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

মাহফিলের শেষ রাতের চূড়ান্ত অধিবেশন শেষে ফজরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে চুনতির সীরত ময়দান, আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে।

মাহফিল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এবারের ১৯ দিনব্যাপী মাহফিলের প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন দেশের খ্যাতনামা আলেম ও ওয়ায়েজরা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, কর্ম ও ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

শনিবার সমাপনী দিনের কর্মসূচিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরে চূড়ান্ত অধিবেশনে আলেম-ওলামারা সীরাতুন্নবী (সা.)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। খোতবায়ে ছদর, সমাপনী বক্তব্য ও মিলাদ শরিফের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৭২ সালে চুনতির যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.) এ ১৯ দিনব্যাপী সীরাত মাহফিলের সূচনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এ মাহফিল এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত।

মাহফিলের প্রেস ও মিডিয়া কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার বলেন, আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা মাহফিলস্থলে আসছেন। ১৯ দিনব্যাপী এ আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরো জানান, আগত মুসল্লিদের বসার স্থান, সুপেয় পানি ও তাবরুকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া পুলিশের বিশেষ একটি টিম মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে কাজ করছেন।

শেষ রাতে আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হবে। মোনাজাত শেষে ফজরের নামাজের মাধ্যমে এবারের ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে।




'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়' স্ট্যাটাসের পর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়' স্ট্যাটাসের পর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
নিহত নরসুন্দর রবি দাশ

আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন’—ফেসবুকে নিজের আইডিতে স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেলুনের ভেতর থেকে নেপাল রবি দাশ (২৬) নামের এক নরসুন্দরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট বাজারের সেলুনের দোকান থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নেপাল রবি দাশ উপজেলার পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। নেপাল ও তাঁর এক ভাই মিলে সেলুনের দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে নেপাল রবি দাশ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন।’ স্ট্যাটাসটি দেখার পর সহকর্মী ও স্বজনেরা দ্রুত তাঁর সেলুনে আসেন। এ সময় সেলুনের দরজা বন্ধ থাকলেও দরজায় কোনো তালা লাগানো ছিল না। স্বজনেরা সেলুনের ভেতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ভেতর থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছেন ঠিকাদারের কর্মচারী

আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছেন ঠিকাদারের কর্মচারী
বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের সাথে ঝুলছেন কর্মচারী

আনোয়ারায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া না গেলেও আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোরশেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আহত ব্যক্তি বিদ্যুতের ঠিকাদারের লোক। তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের বৈদ্যুতিক সংযোগের খুঁটিতে কাজ করছিলেন।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ২-৩ জন লোক বিদ্যুতের কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন খুঁটির ওপর ট্রান্সফরমারের কাছে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের তারের কাছাকাছি উঠে যান। হঠাৎ ওই ব্যক্তি শর্টসার্কিট হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ট্রান্সফরমারের সাথে ঝুলতে থাকেন। সাথে সাথে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।




আনোয়ারা হাসপাতালের জেনারেটরের জ্বালানিসংকট নিরসনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২০০ লিটার তেল! কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

আনোয়ারা হাসপাতালের জেনারেটরের জ্বালানিসংকট নিরসনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২০০ লিটার তেল! কর্তৃপক্ষের অস্বীকার
আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর তেলের গাড়ি

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, তেলসংকটে হাসপাতালের জেনারেটর অলস পড়ে থাকা ও গরমে রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং ফেসবুকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি (ডিজেল) নিয়ে একটি ভ্যানগাড়ি আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হয়। পরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির একান্ত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম সাংবাদিকদের খুদে বার্তায় এই তেল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কিছু তেল হাসপাতালে রেখে গেছেন। নাম-পরিচয় না জানায় আমরা ওই তেল এখনো গ্রহণ করিনি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি ৩০ কেভি ক্ষমতার আরও একটি জেনারেটর দেন হাসপাতালে। তবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় কোনো জেনারেটরই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি সারা দেশে তীব্র বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ে। হাসপাতালে দুটি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানিসংকটের কারণে এসব জেনারেটর চালানো সম্ভব হয় না। এ নিয়ে ফেসবুক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ভ্যান হাসপাতালে আসে। পরে এক যুবক ওই তেল হাসপাতালের কর্মকর্তাদের দিয়ে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির একান্ত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম সাংবাদিকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তায় জানান, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকে প্রচার হলেও কেউ এগিয়ে না আসায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ রোগীদের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর চালানোর জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি তেল পাঠিয়েছেন। এসব তেল দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত জেনারেটর চালানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, আমরা তা সরবরাহ করব।’ তিনি আরও জানান, ‘মানবতার জন্য রাজনীতি লাগে না, মানবতা সকল দল-মতের ঊর্ধ্বে।’

তবে এ বিষয়ে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুপুরে একটি ভ্যানে করে কিছু তেল হাসপাতালে রেখে গেছে। তেল সরবরাহকারীদের নাম-পরিচয় না দেওয়ায় বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ ছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম সাহেবও তেলসংকটের বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।’