চকরিয়ায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

চকরিয়ায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চকরিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে সদ্য প্রকাশিত দাখিল, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী এটিএন পার্ক কনভেনশন হলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক শামীম উদ্দিন। প্রধান আলোচক ছিলেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির কক্সবাজার জেলা সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বশর, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর আরিফুল কবির, মাওলানা আবুল ফজল, অধ্যাপক আবু নাঈম আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম কবির, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট গালিব, সাবেক ছাত্রনেতা মাহফুজুল করিম, সাবেক ছাত্রনেতা কফিল উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের দায়িত্বশীল হাসনাত আবদুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে দাখিল, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুই শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, ফুল ও উপহারসামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সততা, নৈতিকতা এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।




কোরআন প্রতিযোগিতায় সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন: হাফেজ আব্দুস সোবহানকে সংবর্ধনা

কোরআন প্রতিযোগিতায় সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন: হাফেজ আব্দুস সোবহানকে সংবর্ধনা
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ তাহফিজ সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৩০ পারায় অংশ নিয়ে সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন হাফেজ আব্দুস সোবহান।

তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের পুলেরছড়া এলাকার মোহাম্মদ খোকনের পুত্র। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছিড়ামুড়া মজিদিয়া তালিমুল কোরআন হাফেজখানা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী হাফেজ আব্দুস সোবহান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ক্বারী হাফেজ মোহাম্মদ হাসানের তত্ত্বাবধানে হিফজ সম্পন্ন করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জুমার নামাজের পর মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে হাফেজ আব্দুস সোবহানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাফেজ, সহসভাপতি ইলিয়াস, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, অর্থ সম্পাদক রবিউল আলম ও সহঅর্থ সম্পাদক বেলাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, "পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে এমন সাফল্য অর্জন প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। হাফেজ আব্দুস সোবহানের এই অর্জন ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে।"




খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা

খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়ার খুটাখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বত্বদখলীয় আবাদি জমিতে চাঁদার দাবিতে আমন চাষে বাধা দিচ্ছে একটি সন্ত্রাসী চক্র। গত ১০ আগস্ট দুপুর ১টায় জমির মালিক আমন চাষ করতে গেলে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জমির মালিক হাজি রমজান আলী সওদাগর আহত হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছর আমন চাষের জন্য জমি তৈরি শেষে চারা রোপণ করতে গেলে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার হাফেজ আহমদের ছেলে আবদুল মালেক, মাইজপাড়ার ইসলাম আহমদের ছেলে আবদুল মান্নান এবং মৌলভি ফরিদের ছেলে সালমান বিন ফরিদের নেতৃত্বে একদল লোক আকস্মিক সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হামলার শিকার রমজান আলী জানান, চক্রটি ইতিপূর্বে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমন চাষে বাধা দিচ্ছে এবং হামলা চালিয়েছে। চক্রটির কাছে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুটাখালী মৌজার হাফেজখানার দক্ষিণ বিলে ১৯৯৫ সালে ক্রয়সূত্রে ১০ শতক জমির মালিক হন স্থানীয় মরহুম তমিম গোলালের ছেলে হাজি রমজান আলী। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ১৩৩৪ নম্বর দলিল ও ৭৯২ নম্বর খতিয়ানমূলে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু তাঁর মালিকানাধীন জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র তাঁকে বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা দখলবাজ ও চাঁদাবাজ শ্রেণির লোক। এলাকার নানা অপরাধীর সঙ্গে তাদের গভীর সখ্য রয়েছে। খুটাখালীর প্রায় সব ধরনের অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান জানান, তিনি দুদিন ধরে অসুস্থ, বাড়িতেই আছেন। বিষয়টি তাঁকে কেউ অবহিত করেনি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, খুটাখালীতে আমন চাষে বাধা ও হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

হাতির সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা, আবাসস্থল ধ্বংস না করা, হাতি না মারা এবং হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।

১২ আগস্ট সকালে বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারের ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বন কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।

নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ ও ঈদগাঁও উপজেলা বন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক নুর হোছাইন নুরী।

ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক রাশিক আহসান, ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌকির হাসান হৃদয়, ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কুদ্দুসুর রহমান, ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা ফরহাদ বিন বেলাল, ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ফুলছড়ি ও ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মচারী, ভিলেজার, ইআরটি দলের সদস্য, হেডম্যানসহ বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হাতিকে বাঁচাতে হবে। মানুষের প্রয়োজনেই বন উজাড় করা হয়েছে। ফলে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং বন সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌকির হাসান হৃদয় জানান, হাতি দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। হাতি রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই হাতিকে কোনোভাবেই মেরে ফেলা যাবে না; সবাইকে মিলেমিশে হাতি বাঁচাতে হবে।

আলোচনা সভার আগে ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে শিক্ষার্থী, বন বিভাগের কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বনের ওপর নির্ভরশীল উপকারভোগীরা অংশ নেন।