খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা

চকরিয়ার খুটাখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বত্বদখলীয় আবাদি জমিতে চাঁদার দাবিতে আমন চাষে বাধা দিচ্ছে একটি সন্ত্রাসী চক্র। গত ১০ আগস্ট দুপুর ১টায় জমির মালিক আমন চাষ করতে গেলে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জমির মালিক হাজি রমজান আলী সওদাগর আহত হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছর আমন চাষের জন্য জমি তৈরি শেষে চারা রোপণ করতে গেলে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার হাফেজ আহমদের ছেলে আবদুল মালেক, মাইজপাড়ার ইসলাম আহমদের ছেলে আবদুল মান্নান এবং মৌলভি ফরিদের ছেলে সালমান বিন ফরিদের নেতৃত্বে একদল লোক আকস্মিক সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার শিকার রমজান আলী জানান, চক্রটি ইতিপূর্বে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমন চাষে বাধা দিচ্ছে এবং হামলা চালিয়েছে। চক্রটির কাছে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুটাখালী মৌজার হাফেজখানার দক্ষিণ বিলে ১৯৯৫ সালে ক্রয়সূত্রে ১০ শতক জমির মালিক হন স্থানীয় মরহুম তমিম গোলালের ছেলে হাজি রমজান আলী। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ১৩৩৪ নম্বর দলিল ও ৭৯২ নম্বর খতিয়ানমূলে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু তাঁর মালিকানাধীন জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র তাঁকে বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা দখলবাজ ও চাঁদাবাজ শ্রেণির লোক। এলাকার নানা অপরাধীর সঙ্গে তাদের গভীর সখ্য রয়েছে। খুটাখালীর প্রায় সব ধরনের অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান জানান, তিনি দুদিন ধরে অসুস্থ, বাড়িতেই আছেন। বিষয়টি তাঁকে কেউ অবহিত করেনি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, খুটাখালীতে আমন চাষে বাধা ও হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










